শিশুদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে ‘হাতে খড়ি’
চারতলা ভবনের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতেই দুই পাশের দেয়ালে চোখ ধাঁধানো সব নান্দনিক ছবি। রঙ-তুলির আঁচড়ে আঁকা এসব থ্রিডি ছবি ক্যামেরাবন্দি করলে মনে হয় যেন জীবন্ত, বাস্তব। চারতলায় পৌঁছাতেই দেখা মেলে একঝাঁক শিশু-কিশোরের, যারা মেতে আছে জলরঙের জাদুতে। কেউ আঁকছে গ্রামবাংলার চিরায়ত রূপ, কেউ শহরের কোলাহল, আবার কারও কাগজে ফুটে উঠছে শহীদ মিনারের আবেগ কিংবা আকাশ-পাহাড়ের রহস্য।
সৃজনশীল এই মুগ্ধকর পরিবেশের কারিগর ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাজীপাড়ার চিত্রশিল্পী মকবুল হোসেন সজীব। ২০০৭ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘হাতে খড়ি আর্ট একাডেমি’, যা বর্তমানে ২০ বছরে পদার্পণ করেছে। ছাত্রজীবন থেকেই নেশা ছিল রঙ-তুলিতে সমাজকে ফুটিয়ে তোলা। উচ্চশিক্ষা শেষে শিক্ষকতার সুযোগ এলেও সেই নেশার টানেই চাকরি ছেড়ে গড়ে তুলেছেন এই প্রতিষ্ঠান।
একসময় কাজীপাড়া এলাকাটি ভিন্ন কারণে পরিচিত থাকলেও, আজ সেখানে ‘হাতে খড়ি আর্ট একাডেমি’ এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা ও সৃজনশীলতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এই একাডেমিতে ২ জন স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত প্রশিক্ষকসহ মোট ৫ জন প্রশিক্ষক অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে নিয়মিত আর্ট শেখাচ্ছেন। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে অনেকেই জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কৃত হয়েছেন এবং নতুনদের প্রশিক্ষিত করছেন।
শিক্ষার্থীরা জানায়, এখানে আর্ট শেখার মাধ্যমে তাদের সৃজনশীল মেধার বিকাশ ঘটছে। অভিভাবকদের মতে, এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের মোবাইলফোন আসক্তি থেকে দূরে রেখে সুস্থ মানসিক বিকাশে আস্থার জায়গায় পরিণত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠাতা মকবুল হোসেন সজীব বলেন, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য নয়, বরং একটি সৃজনশীল ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য। ২০০০ সাল থেকে চিত্রাঙ্কনের সঙ্গে যুক্ত এই শিল্পীর স্বপ্ন একদিন একটি সমৃদ্ধ আর্ট গ্যালারি এবং ‘ওয়ার্ল্ড আর্ট ভিলেজ’ প্রতিষ্ঠা করা। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতা তার এই বড় স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন চপল বলেন, এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে যেন এই সম্ভাবনা থমকে না যায়, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসা উচিত। আমি স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে এ বিষয়ে সহযোগিতার চেষ্টা করব।

শাহনেওয়াজ শাহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া (সদর-আশুগঞ্জ-বিজয়নগর)