মহাসড়কে কাস্টমস কর্মকর্তার মরদেহ, মায়ের দাবি হত্যা
কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য তৈরি হয়েছে। গতকাল শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে মরদেহটি উদ্ধারের পর আজ রোববার সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তার গ্রামের বাড়িতে শেষকৃত্যের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহত বুলেট বৈরাগী কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে গত ১১ এপ্রিল সেখানে যান। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে প্রশিক্ষণ শেষ করে চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। সর্বশেষ রাত ১টা ২৫ মিনিটে পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি জানান, তখন কুমিল্লার টমছমব্রিজ এলাকায় অবস্থান করছেন। এর কিছুক্ষণ পর থেকেই তার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সকালে কোটবাড়ি এলাকায় তার রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়।
রোববার সকালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ তার কর্মস্থলে নেওয়া হলে সহকর্মীদের অশ্রুসজল নয়নে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরদেহ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পাঠানো হয়। শোকাতুর এই ঘটনার মধ্যেই জানা যায়, আগামী ২৭ এপ্রিল বুলেট বৈরাগীর শিশুপুত্র অব্যয় বৈরাগীর প্রথম জন্মদিন ছিল। সন্তানের জন্মদিনের মাত্র দুদিন আগে বাবার এমন মৃত্যুতে স্ত্রী উর্মী হীরা ও স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
নিহতের মা নিলীমা বৈরাগী দাবি করেছেন, এটি কোনো সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনা নয়, বরং তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
কাস্টমস কমিশনার আবদুল মান্নান সরদার জানান, প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তারা পুলিশকে সব ধরনের সহযোগিতা করছেন।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ইসতিয়াক হাসান আমিন জানান, মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে এবং তদন্তের পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা