বালু উত্তোলনে বাধা, দুর্বৃত্তদের হামলায় ৫ পুলিশসহ গুলিবিদ্ধ ৬
কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষীকুণ্ডা নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জসহ (ওসি) ৫ পুলিশ সদস্য ও নৌকার মাঝি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিনগত রাত দেড়টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর এলাকায় পদ্মা নদীতে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ হয়ে আহতরা হলেন লক্ষীকুণ্ডা নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সদস্য ইনামুল হক, শাহিনুর হক, নাজমুল হাসান, মানিক মিয়া ও নৌকার মাঝি মো. তুহিন। আহতদের উদ্ধার করে আজ বুধবার ভোরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে চোখে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত এক পুলিশ সদস্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু কাটার সংবাদ পেয়ে লক্ষীকুণ্ডা নৌ-ফাঁড়ির একটি দল রাতে অভিযানে বের হয়। রাত দেড়টার দিকে হরিপুর এলাকায় পৌঁছে তারা অবৈধ বালু কাটা বন্ধ করে দেওয়ার পরপরই স্পিডবোটে থাকা ৩০-৩৫ জন দুর্বৃত্ত তাদের ওপর অতর্কিত গুলি চালায়। দুর্বৃত্তরা অন্তত ২০ থেকে ৩০ রাউন্ড গুলি ছুড়লে নৌকায় থাকা পুলিশ সদস্যরা রক্তাক্ত জখম হন। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ গোলাগুলি চলে।
আহত নৌ-পুলিশ ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, অবৈধ বালুকাটার সংবাদে তারা ফোর্সসহ অভিযানে গিয়েছিলেন। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা অতর্কিত এই হামলা চালায়।
নৌকার মাঝি তুহিন জানান, বালু কাটা বন্ধ করার পরপরই দুর্বৃত্তরা ঘিরে ধরে নির্বিচারে গুলি করতে শুরু করে।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের আবাসিক সার্জন ডাক্তার হাসানুজ্জামান টুটুল জানান, আহতদের মধ্যে দুজনের শরীর থেকে গুলির পিলেট বের করা হয়েছে। বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন জানান, পাবনা-কুষ্টিয়া সীমান্তের পদ্মা নদীতে এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান শুরু হয়েছে।

সাবিনা ইয়াসমিন শ্যামলী, কুষ্টিয়া