শিশুকে অপহরণের পরে হত্যা, দুজনের যাবজ্জীবন
রাজধানীর কাফরুলে শফিকুল ইসলাম মিলন (১১) নামে এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে দুজনকে যাবজ্জীবন ও এক আসামিকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিউর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন, আল আমিন ঘরামী ও মাসুদ রানা। বিচারক আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেকের এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগের নির্দেশ দিয়েছেন।
এরশাদ আলম বলেন, ভিকটিমকে অপহরণের দায়ে সাইফুল ইসলাম ওরফে ছোট সাইফুল নামের আরেক আসামিকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে এই আসামিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া এই মামলায় মো. আব্দুল মোতালেব ওরফে মোতা ও আমিরুল ইসলাম ওরফে রুবেলকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
এরশাদ আলম বলেন, রায়ে আসামিদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত ভিকটিমের পরিবারকে দেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নথি থেকে জানা গেছে, ২০০৮ সালের ৬ মার্চ বাসা থেকে খেলার উদ্দেশ্যে মিলন বের হন। এরপর আর সে বাসায় ফিরে আসেনি। ৭ মার্চ থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অপহরণকারীরা মিলনের পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ ঘটনায় মিলনের বাবা শফিকুল ইসলাম ওরফে শহিদ ১৩ মার্চ কাফরুল থানায় অপহরণের মামলা করেন। কললিস্টের সূত্র ধরে আসামিদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, সাভারের রামচন্দ্রপুর কর্ণপাড়া নামের স্থান থেকে মিলনের হাড়, দাঁত, রক্তমাখা পাথর উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মামলায় হত্যার অভিযোগ সংযুক্ত করা হয়।
পরে ২০০৮ সালের ২৩ মে কাফরুল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মীর আবুল কালাম আজাদ ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আদালত প্রতিবেদক