‘সরকার দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে জ্বালানি-বিদ্যুতের দাম বাড়ায়নি’
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম যদি বাড়ে তাহলে সমন্বয় সাধন করতে হয় এটাই একমাত্র কেতাবি সমাধান। কিন্তু আপনারা লক্ষ্য করেছেন এই বৈরী পরিবেশেও সরকার সে পথে যায়নি। সরকার কৃষক, সাধারণ মানুষ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ বলেই জ্বালানি-বিদ্যুতের দাম বাড়ায়নি।
আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ‘সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, পতিত সরকারের রেখে যাওয়া বিশাল মূল্যস্ফীতি উসকে দিতে পারে, জনগণের দুর্ভোগ আসতে পারে, অতি দরিদ্রের সংখ্যা আরও বেড়ে যেতে পারে, নিম্নবিত্ত আরও দরিদ্র হতে পারে—এমন পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম সমন্বয় সাধন করা হয়নি। কিন্তু এটাও আপনাদের মনে আছে ইউক্রেনে যখন যুদ্ধ চলছিল তখন কিন্তু বারবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছিল। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ বলেই জ্বালানি এবং বিদ্যুতের দাম বাড়ায়নি বর্তমান সরকার।
উপদেষ্টা আরও বলেন, বিভিন্ন হিসাবে দেখা গেছে গত তিন বছরে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছে। আগের অনেক উদ্যোগ দোষে ও ত্রুটিতে পূর্ণ ছিল। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অনেক অর্থ অপব্যবহার হয়েছে। বিএনপি সেখান থেকে সর্বজনীন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের দিকে গেছে। এতে দেশের দরিদ্রের সংখ্যা কমে আসবে।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, বাংলাদেশে আগে কখনও আনুষ্ঠানিক মর্যাদা দেওয়া হয়নি। বিএনপি সেটি করেছে। সরকার মনে করে সবাই তফসিলি ব্যাংকের সদস্য হতে পারে। তফসিলি ব্যাংক কৃষকের কাছে গেছে। এই কার্ড সবার জন্য প্রযোজ্য।
জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লার সভাপতিত্বে এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু।
সভায় ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল, গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান সেলিমসহ ফরিদপুরের পাঁচটি জেলার সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সরকারি উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ও বিএনপিনেতারা অংশ নেন।
ফরিদপুরে সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন শীর্ষক মতবিনিময়ে মূলত এ অঞ্চলের পাটশিল্পের সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয়, নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম জোরদার করা এবং পাঁচ জেলার সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়ে এ অঞ্চলে সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়নবিষয়ক মতামত নেওয়া হয়। আর এই মতামতের ওপর ভিত্তি করে এলাকার উন্নয়নে সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন হাতে নিয়ে কাজ শুরু করা হবে বলেও সভায় জানানো হয়।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর