শিশু হত্যাকে কেন্দ্র করে গণপিটুনিতে নিহত আরও ২
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের বনপারিল দক্ষিণপাড়া এলাকায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আতিকা আক্তার (৭) নামে প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে অভিযুক্তের বাবা ও আত্মীয়সহ দুইজন নিহত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে প্রতিবেশী একটি বিয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের সামনে খেলাধুলা করছিল আতিকা। কিছুক্ষণ পর তাকে আর খুঁজে না পাওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে আতিকার এক চাচাতো ভাই জানায়, শেষবার তাকে প্রতিবেশী কিশোর নাঈমের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। পরে স্থানীয়রা নাঈমকে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে আতিকার মরদেহ থাকার কথা স্বীকার করে। রাত ১০টার দিকে ওই ক্ষেত থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত নাঈমের বাড়িতে হামলা চালায়। ভাঙচুর শেষে তারা নাঈমের পরিবারের সদস্যদের ওপর চড়াও হয়। ব্যাপক মারধর করে পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেয়। পরে পুকুর থেকে নাঈমের বাবা পান্নু মিয়া (৪৫) ও তার আত্মীয় ফারুকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া নাঈমের ভাই নাজমুল গুরুতর আহত অবস্থায় মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত নাঈম পলাতক রয়েছে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন জানান, শিশু আতিকার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটির গায়ের স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
ওসি আরও জানান, শিশু হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি গণপিটুনির ঘটনায় যারা আইন হাতে তুলে নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ