খাগড়াছড়িতে ত্রিপুরাদের বৈসু উৎসব
খাগড়াছড়িতে ত্রিপুরাদের বর্ষবরণ উৎসব বৈসু শুরু হয়েছে। আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভোরে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ ও শিশুরা ঘুমথেকে উঠে ঘরবাড়ি পরিষ্কার ও গোসল করে তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও গয়না পরিধান করে নদী, ছড়া বা খালে গিয়ে বিশেষ প্রার্থনা করে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে।
ত্রিপুরাদের বর্ষবরণ উৎসব বৈসুর প্রথমদিনকে বলা হয় হারি বৈসু। এ দিন বন জঙ্গল থেকে নিয়ে আসা বাহারি ফুল কলাপাতায় সাজিয়ে মোম ও আগরবাতি জ্বালিয়ে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশে নিবেদন করে পুরতন বছরকে বিদায় জানায় আর নতুন বছরকে বরণ করে নেয়।
মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু করার সময় তরুণীরা নিজেদের হাতে তৈরি ছোট ছোট রিসা বা উড়না ফুলসহ পানিতে ভাসিয়ে দেয়। ছোট ছেলে মেয়েরা ছড়ার পানিতে হই হুল্লোড় করে, একে অপরকে পানিয়ে ছিটিয়ে বড়দের সঙ্গে আনন্দে মেতে উঠে।
বৈসু উপলক্ষে বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের উদ্যোগে জেলা শহরের পল্টন জয় এলাকায় আয়োজিত বৈসু আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইয়ার সহধর্মিণী ও জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা জাকিয়া জানাত বীথি।
এ সময় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার ও ত্রিপুরা সংসদের সভাপতি কমল বিকাশ ত্রিপুরা উপস্থিত ছিলেন।
সদর উপজেলার খাগড়াপুর এলাকার বাসিন্দা টিনা ত্রিপুরা বলেন, আজকে আমাদের হারি বৈসু। কালকে বৈসুমা আর পরশু বিসিকাতাল। এই তিন দিন আমাদের বর্ষবরণে নানা আয়োজন করে থাকি। বছরে একবারই এমন আয়োজন হয় বলে সারা বছর আমরা এ ধরনের উৎসবের জন্য অপেক্ষা করি। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন নিয়ে এখানে অংশ নিতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।
ফুল ভাসানোর উৎসবের আয়োজক কমল বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, ‘হারি বৈসু’ কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি পাহাড়ের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। নিজেদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এ আয়োজন।
এদিকে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের অনেকে আজ নতুন বছরের মঙ্গল কামনায় মাতাই পুকুরি বা দেবতা পুকুরে যান পূজা দিতে।
অন্যদিকে চাকমাদের আজ উৎসবের দ্বিতীয়দিন মূল বিজু। ঘরে ঘরে নানা ধরনের সবজি দিয়ে তৈরি বিশেষ খাবার পাজন দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন হচ্ছে। মারমাদের সাংগ্রাই উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে।

আবু তাহের মুহাম্মদ, খাগড়াছড়ি