খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাসা থেকে বের করার নেপথ্যে ছিলেন মামুন : পিপি
রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদের আদালত এই আদেশ দেন। এদিন দুপুরে ঢাকার সিএমএম আদালতে ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন আসামিকে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে বিকাল সোয়া ৩ টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামি তারেক মামুনকে সিএমএম আদালতে তোলা হয়। এসময় তার মাথায় হেলমেট এবং শরীরে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পড়ানো ছিল।
এরপরে তাকে আদালতের এজলাসে তোলা হলে তার রিমান্ড শুনানি শুরু হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, ‘আসামি মামুন খালেদ এক-এগারোর অন্যতম কুশীলব ছিলেন। পরবর্তীতে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে সহযোগিতা করায় পুরস্কারস্বরূপ তাকে ডিজিএফআই প্রধান করা হয়। তার আমলেই আয়নাঘর তৈরি করে সাধারণ মানুষকে নির্যাতন ও পুড়িয়ে মারার মতো অপরাধ করা হয়েছে।’
পিপি শুনানিতে আরও বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাসা থেকে এক কাপড়ে বের করে দেওয়ার নেপথ্যে ছিলেন এই মামুন খালেদ। তার নির্দেশেই গত ১৯ জুলাই মিরপুরে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়, যাতে দেলোয়ার নামে এক ব্যক্তি নিহত হন।’
পিপি আরও বলেন, জলসিড়ি প্রকল্পের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আসামি। যে-কারণে ইতোমধ্যে আদালত তার স্ত্রীসহ বিদেশযাত্রা নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছেন।
এরপর রিমান্ড শুনানির সময় মামুন আদালতের অনুমতি নিয়ে বলেন, এক-এগারোর সময় আমি কুমিল্লায় কর্মরত ছিলাম। সে সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জামিনের বিষয়ে আমি সরাসরি ভূমিকা পালন করেছি। এরপরে তিনি বলেন, তার মেয়াদে আয়নাঘর নিয়ে কোনো অভিযোগ ছিল না এবং তিনি এ বিষয়ে একাধিকবার শুনানিতে অংশ নিয়েছেন। এরপরে জলসিঁড়ি প্রকল্প নিয়ে তিনি বলেন, ‘নজরুল সাহেব নামে একজনের এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা উদ্ধারের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছিল, আমি শুধু সেই উদ্ধার প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলাম।’ এছাড়া মামলার ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং দীর্ঘ সময় ধরে সিভিলিয়ান হিসেবে জীবনযাপন করছেন বলে জানান।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন ও নজরুল ইসলাম শুনানিতে বলেন, মাননীয় আদালত। মামলার এজাহারে আসামি মামুন খালেদের নাম নেই এবং ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ২০১৬ সালে তিনি অবসরে গিয়েছেন এবং একজন পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে তিনি শুধু দায়িত্ব পালন করেছেন। খালেদা জিয়ার বাসা উচ্ছেদের সময় তিনি ‘অন ডিউটি’ কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি আদেশ পালন করেছিলেন মাত্র।
এদিকে রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলায় দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী লিজা বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করতে আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এর আগে, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
এজাহার থেকে জানা গেছে, গত ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর এজাহারভুক্ত আসামিসহ বিপুল সংখ্যক সশস্ত্র ব্যক্তি হামলা চালায়। হামলার সময় বিভিন্ন দিক থেকে গুলি ছোড়া হলে দেলোয়ার হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে তাকে প্রথমে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরবর্তীতে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই সকালে তার মৃত্যু হয়।

আদালত প্রতিবেদক