আওয়ামী লীগ করার অভিযোগে চাঁদা দাবি, না দেওয়ায় সংঘর্ষে আহত ২৫
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগ করার অভিযোগে চাঁদা দাবি এবং তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে ত্রিমুখী সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। ঘটনায় এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সোমবার (২৩ মার্চ) সাহারবাটি গ্রামের কড়ুইতলা পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগ সমর্থিত হওয়ার অভিযোগে ইউপি সদস্য আব্বাস আলীর পরিবারের কাছে বিএনপি সমর্থিত দবির উদ্দীনের গ্রুপ ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। এর আগেও গোপনে কিছু টাকা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে পুনরায় চাঁদা দাবি করলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়।
আহত আনসার আলীর ছেলে ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্বাস আলী অভিযোগ করে বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে আ.লীগ করার কারণে আমাদের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। এর আগেও কিছু টাকা দিতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু আবার টাকা চাইলে দিতে রাজি হইনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সকালে দবির ও তার দুই ভাই আমার বাবা-মাকে লোহার রড দিয়ে মারধর করে।”
পরে স্থানীয়রা আহত আনসার আলী ও তার স্ত্রীকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। আনসার আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন।
এ ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং রাত ৮টার দিকে দবির উদ্দীন গ্রুপ ও সাবেক ইউপি সদস্য ফরমান আলীর সমর্থকদের মধ্যে ফের সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে দবির উদ্দীন গ্রুপের রিয়া খাতুন (৪০), মিঠুন আলী (৩২), উজ্জ্বল হোসেন (৩৮), মুন্তাজ আলী (৫০), শরিফুল ইসলাম (৪৩) ও রফিকুল ইসলাম (৬০) রয়েছেন। অপরদিকে ফরমান আলী গ্রুপের আসমাউল হুসনা (২৬), মুকুল হোসেন (৪৫), আসিফ হোসেন (২৫), তকুল হোসেন (৫০), হামিদুল ইসলাম (৫০), আইনাল হক (৬০) ও বরকত আলী (৪০) সহ অন্তত ২৫ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে অন্তত ১৫ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত রিয়া খাতুন ও শরিফুল ইসলামকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আসমাউল হুসনাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে দবির উদ্দীন বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আব্বাস মেম্বার ও তার বাবা আমার ওপর চরম অত্যাচার করেছে। তারা জোর করে আমার গোয়াল থেকে গরু-ছাগল নিয়ে গেছে এবং মাঠের ফসল ঘরে তুলতে দেয়নি। তাই মাইরের বদলে মার দেওয়া হয়েছে।”
এ সময় তার দুই ভাই আব্দুল খালেক ও মালেকও আহত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অপরদিকে সাবেক ইউপি সদস্য ফরমান আলী বলেন, “এ হামলা খুবই ন্যক্কারজনক। একজন বৃদ্ধ মানুষের ওপর হামলা করা উচিত হয়নি। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। এটি কোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নয়, পারিবারিক বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে। দবির দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন মানুষের ওপর হামলা ও জোরজুলুম চালিয়ে আসছে।”
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।

রেজ আন উল বাসার তাপস, মেহেরপুর