১৭০ টাকার ব্রয়লার ২২০ টাকা, দেশি মুরগি ৭০০
পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে আসতেই ময়মনসিংহের বাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে মুরগির বাজারে চড়া মূল্যের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ব্রয়লার, সোনালি ও দেশি মুরগির দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। তবে মাংসের বাজারে অস্থিরতা থাকলেও সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তির আভাস পাওয়া গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) নগরীর নতুন বাজার, মেছুয়া বাজার, সানকিপাড়া, শম্ভুগঞ্জ ও মিন্টু কলেজ বাজার ঘুরে দেখা গেছে দামের এই ঊর্ধ্বমুখী চিত্র। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকায়, যা এক মাস আগেও ছিল ১৬৫-১৭০ টাকা। সোনালি মুরগির দাম ২৫০-২৬০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬০-৩৮০ টাকায়। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা দেশি মুরগির ক্ষেত্রে, মাসখানেক আগে যা ৪০০-৪৫০ টাকায় পাওয়া যেত, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭২০ টাকা কেজি দরে।
সানকিপাড়া বাজারে কেনাকাটা করতে আসা আনিস ফারুক বলেন, রোজার শুরুতে এক দাম ছিল, এখন ঈদের আগে আরেক দাম। এক মাসে দেশি মুরগির দাম কেজিতে ২৫০-৩০০ টাকা বেড়ে যাওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক হতে পারে না।
আরেক ক্রেতা রোমন সরকার আক্ষেপ করে বলেন, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, মুরগির দাম তত বাড়ছে। যে টাকা বোনাস পেয়েছি তা বাজার করতে করতেই শেষ। বাজার মনিটরিং না থাকলে সাধারণ মানুষের টিকে থাকা দায়।
নতুন বাজারের ‘ব্রয়লার হাউজ’র মালিক মো. কামাল জানান, ঈদের আগে চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়, কিন্তু অনেক ছোট খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে পর্যাপ্ত মুরগি আসছে না। পাইকারি বাজারে চড়া দামের কারণে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।
এদিকে বর্তমানে ময়মনসিংহের বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাংসের বাজারে হাহাকার থাকলেও সবজির বাজারে মিলেছে কিছুটা স্বস্তি। বাজারে বর্তমানে কাঁচা মরিচ ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, শসা ও সিম ৫০ টাকা, লেবুর হালি ৩০-৫০ টাকা।

তানভীর হোসাইন, ময়মনসিংহ (সদর-মুক্তাগাছা)