সংসদে রাষ্ট্রপতির দেওয়া পূর্ণ ভাষণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার ভাষণে বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম, খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলের সদস্যবৃন্দকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি, যাদের অসামান্য ত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়ে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সহস্রাধিক মানুষ শহীদ হয়েছেন। নারী, পুরুষ, শিশুসহ আহত ও পঙ্গু হয়েছেন কমপক্ষে ত্রিশ হাজার মানুষ। পাঁচ শতাধিক মানুষ চোখ হারিয়ে অন্ধত্ব বরণ করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণে মো. সাহাবুদ্দিন এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় প্রথম দিনে হট্টগোলের মধ্যে ভাষণ শুরু করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এসময় প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ ও ওয়াক আউট করেন বিরোধী দলের সদস্যরা। এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন। এ সময় বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। তাঁদের হাতে প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। প্ল্যাকার্ডে জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না, জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্যতা বন্ধ করসহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা রয়েছে। স্পিকার এ সময় সবাইকে শান্ত থাকতে আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার ভাষণে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই উদ্বোধনী অধিবেশন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এই মহান জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল এবং এই নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন, মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের নিরলস পরিশ্রম, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তির আন্তরিক উদ্যোগ এবং সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ভবিষ্যতের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বর্তমান সংসদে বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে। আমি এই সংসদে আপনার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি এই মহান জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সকল সংসদ সদস্যকেও অভিনন্দন জানাচ্ছি।
মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, যাঁদের। আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি। জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সকল অবিসংবাদিত নেতার অবদানকেও আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। আমি, তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, যিনি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে প্রতিবার সামনের কাতারে থেকে আপসহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন।
বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে এক পর্যায়ে এটি ফ্যাসিবাদ-বিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, প্রবাসী তথা সকল শ্রেণি পেশার মানুষ, গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলসহ সকলের সম্মিলিত আন্দোলনের ফলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে। হাজারো শহীদের রক্তের উপর দিয়ে তাঁবেদার ও ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা হয়। আমি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের এবং দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম, খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলের সদস্যবৃন্দকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি, যাদের অসামান্য ত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়ে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সহস্রাধিক মানুষ শহীদ হয়েছেন। নারী, পুরুষ, শিশুসহ আহত ও পঙ্গু হয়েছেন কমপক্ষে ত্রিশ হাজার মানুষ। পাঁচ শতাধিক মানুষ চোখ হারিয়ে অন্ধত্ব বরণ করেছেন।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চলমান রয়েছে। ১৩৭ জন গুরুতর আহত জুলাই যোদ্ধাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে। আহতদের ১২ হাজার ৪৩টি স্বাস্থ্য কার্ড দেয়া হয়েছে। ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ২০২৪ সালের জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা সহায়তা ও ভাতা অনলাইন ব্যাংকিং সিস্টেমে পরিচালিত হচ্ছে। সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ, গবেষণা, উন্নয়ন, দিবস উদযাপনসহ নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর সরকার জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শিশু শহীদদের ৬০টি পরিবারকে এককালীন ৫০ হাজার টাকার সমমূল্যের প্রাইজবন্ড এবং সম্মাননা স্মারক প্রদান করেছে। ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে শহীদি মৃত্যুর নির্দিষ্ট স্থানে ‘Street Memory Stamp স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শহীদদের কবর সংরক্ষণ করা হয়েছে। জুলাই শহীদদের স্মৃতি অম্লান রাখতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সস্মৃতি জাদুঘর এবং ৬৪ জেলায় স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছে। জাতীয়ভাবে ৩৬ দিনব্যাপী জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালা-২০২৫ বাস্তবায়িত হয়েছে। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, ২০২৪ সালের দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধসহ এ যাবৎকালে দেশের ইতিহাসের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
জনাব স্পিকার,
বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনীতি এক অস্থিতিশীল সময় অতিক্রম করছে। তবে দেশের সামষ্টিক অথনৈতিক পরিস্থিতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অনেকটা স্থিতিশীল রয়েছে। রেমিট্যান্সসহ আরও কয়েকটি সূচক ইতিবাচক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী ২০২৪-১৫ অর্থবছরের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৩.৪৯ শতাংশ। এ সময়ে মাথাপিছু জাতীয় আয় দাঁড়িয়েছে ২,৭৬৯ ইউএস ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় হবে বলে সরকার আশা করে। একদিকে বিশ্বে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং অপরদিকে দেশে মুদ্রাস্ফীতি, রাজস্ব জিডিপির নিম্নহার, এ ধরনের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিতে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে ৯.৯৪ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ৮.৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আশা করা যায়, পরবর্তী মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি হাসের ধারা অব্যাহত থাকবে।
তৈরি পোশাক খাত থেকে গত এক বছরে ৩৯.৩৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার অর্জিত হয়েছে। বর্তমান সরকার আরও নতুন রপ্তানি খাত এবং রপ্তানি বাজার আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্য নিয়ে সুর্নিদিষ্ট কর্মসূচি বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু করেছে।
পাট ও পাটপণ্য হতে গত এক বছরে ৪৭০ মিলিয়ন ইউএস ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি ৮.৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৮,৩০০ মিলিয়ন ইউএস ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে রেমিট্যান্সের অন্তঃপ্রবাহ ২৬.৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৩০,৩২৯ মিলিয়ন ইউএস ডলারে। ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৭৮ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং টাকা-ডলার বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ডলার প্রতি ১২২.৩০ টাকায়। স্বয়ংক্রিয় বন্ড ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে। আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত তথ্য সহজে প্রাপ্তির জন্য Export-Import Hub চালু করা হয়েছে। ই-ভ্যাট বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অনলাইনে আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী করদাতাদের জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি। পুঁজিবাজারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তদারকি কার্যক্রম উন্নতকরণ, আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং খেলাপি ঋণ হ্রাসে গুরুত্ব দিয়েছে। বর্তমান সরকার ব্যাংক খাতের সুশাসন, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার যৌক্তিকীকরণ এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর নীতি প্রণয়ন করবে। এ লক্ষ্যে 'অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন' গঠন করা হবে। এ ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের শৃঙ্খলা, তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ক্ষমতায়ন এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিলুপ্ত করা হবে। ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানগুলোর উচ্চ। খেলাপি ঋণ (নন-পারফর্মিং লোন) সমস্যা পর্যালোচনা করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিমা খাতের উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
পুঁজিবাজারের সংস্কারের জন্য একটি ‘পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে। পাশাপাশি, গত ১৫ বছরে পুঁজিবাজারে সংঘটিত অনিয়ম তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে। শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা আনয়ন, কারসাজি বন্ধ, শক্তিশালী বন্ড ও ইক্যুইটি মার্কেট, করপোরেট বন্ধ ও 'সুকুক' গঠন করা হবে। প্রবাসীদের জন্য ইনভেস্টমেন্ট গেটওয়ে চালু, ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা হবে।
জনাব স্পিকার,
২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপি প্রণয়নে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা, বেকারত্ব হ্রাস, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, কৃষি ও শিল্পের উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বৈদেশিক অর্থায়নের পরিমাণ ৮৬ হাজার কোটি টাকা, যা মোট এডিপি'র ৩৭.৩৯ শতাংশ। ২০২৫ সালে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ কর্তৃক ৭৫৩টি চলমান প্রকল্প পরিবীক্ষণ ও ১৭৮টি সমান্ত প্রকল্প মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং ৩৫৩টি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
বর্তমান সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণে অলিগার্কিক কাঠামো ভেঙে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে। ঋণ-নির্ভর অর্থনীতিকে বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরই হবে বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সম্পদ তৈরিতে বিনিয়োগ-নির্ভর অর্থনীতি হবে চালিকাশক্তি। বর্তমান সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সরকার দেশে রাজস্ব ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয় সাধন করবে এবং ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে কণ্ঠ অব ডুয়িং বিজনেস এবং ইজ অব ডুয়িং বিজনেস-এর উন্নয়নকে সর্বাধিক প্রাধান্য দেবে।
বাংলাদেশের কৃষিখাত খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমান সরকার কৃষক ও কৃষি উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। এর ফলে ১১ লাখের বেশি কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছে।
আম, আলুসহ বিভিন্ন উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণে সরকার হিমাগার স্থাপন করছে। বরেন্দ্র প্রকল্প পুনরায় চালু করা হচ্ছে। কৃষি বীমা, ফসলের ন্যায্যমূল্য ও কৃষিজমি সুরক্ষা, সরকারি ক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করে ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উত্তরাঞ্চলে গড়ে তোলা হচ্ছে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল। অঞ্চলভিত্তিক উৎপাদন ও গবেষণা, এগ্রোপ্রেনারশিপ স্টার্টআপ চালু করা হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ চাল, সবজি, পাট, আলু ও আম উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় দেশসমূহের মধ্যে রয়েছে।
ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ মাছ, মাংস এবং ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষনা ইনস্টিটিউট বিলুপ্তপ্রায় ৪১ প্রজাতির মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবনসহ লাইক জিন ব্যাংক স্থাপন করেছে। বর্তমান সরকার কর্তৃক প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে নিরাপদ ফিড উৎপাদন, ভ্যাক্সিন প্ল্যান্ট স্থাপন, পোল্ট্রি, মাংস ও ডেইরি শিল্পের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে নীতি সহায়তা ও সরকারি প্রণোদনা দেয়া হবে। প্রতি উপজেলায় পর্যাপ্ত পশু-রোগ প্রতিষেধক ঔষধের যোগান নিশ্চিত করা এবং ভেটেরিনারি সার্জন নিয়োগ দেয়া হবে। মৎস্য খাত উন্নয়নে জলমহাল, উপকূলীয় খাল ও হাওরের ইজারা প্রথা বিলুপ্ত করে 'জাল যার জলা তার' এই নীতির ভিত্তিতে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
জনাব স্পিকার,
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মূল উদ্দেশ্য ছিল ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে জনগণের সরাসরি ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সমাজ বিনির্মাণ। সেই লক্ষ্য অর্জনে ফ্যাসিবাদ পতন পরবর্তী সরকার কর্তৃক রাষ্ট্র মেরামতের অংশ হিসেবে জনগুরুত্বপূর্ণ খাত সংস্কারের লক্ষ্যে ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছিল। বর্তমান সরকারও 'করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ'- এই স্লোগানকে উপজীব্য করে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করে জনগণের ম্যান্ডেট অর্জন করেছে। ইশতেহারে রাষ্ট্র মেরামতের সংস্কারে গণতন্ত্র,
জবাবদিহিতা ও সুশাসন এই তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে সরকারের সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন কঠোর হস্তে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। এই দুটি বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বর্তমান সরকার দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করছে। দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বিএনপি সরকারের ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন কানিয়ে ২০০১ সালের জুন মাসে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়েছিল। ২০০১ সালের অক্টোবর মাসে পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়ে, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্নীতি দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এ ছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ প্রণয়ন করে। এর ফলে বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কলঙ্ক থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পায়। ২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে বিএনপি যখন রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়, তার অনেক আগেই বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নের কলঙ্ক থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ এশিয়ার ইমার্জিং টাইগার হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এবারও দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই হবে বর্তমান সরকারের প্রথম এবং প্রধান অগ্রাধিকার।
জনাব স্পিকার,
দেশের অর্ধেকের বেশি নারী শক্তিকে রাষ্ট্র রাজনীতির মূলধারার বাইরে রেখে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে 'ফ্যামিলি কার্ড' ইস্যু করার কার্যক্রম চালু করেছে। প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে 'ফ্যামিলি কার্ড' ইস্যু হলেও প্রথম পর্যায়ে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে আত্মনির্ভরশীল হতে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নগদ আড়াই হাজার টাকা কিংবা সমপরিমাণ প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে। সরকার ইতোমধ্যে দেশের ১৪টি জেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে 'ফ্যামিলি কার্ড' চালু করেছে। সহায়তার পরিমাণের চেয়েও এই 'ফ্যামিলি কার্ড'কে সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করছে।
এসব কর্মসূচির বাইরেও সরকারের বিদ্যমান খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৫৫ লক্ষ হতদরিদ্র পরিবারকে মাসে ৩০ কেজি চাল ১৫ টাকা কেজি দামে দেয়া হচ্ছে এবং ২০১৫ সালে ১৬.৭৩ লক্ষ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়েছে। খাদ্যবান্ধব ও ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট কর্মসূচিতে ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ পুষ্টি চাল বিতরণ করা হচ্ছে। ওএমএস কর্মসূচিতে স্বল্পমূল্যে চাল ও আটা বিক্রি করা হচ্ছে।
সরকার দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সংস্কারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, যা সার্বিক ঝুঁকিহ্রাস ব্যবস্থাপনা উত্তরণে সহায়তা করছে। উক্ত কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যা পর্যন্ত সেতু/কালভার্ট নির্মাণ, বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ও বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ; অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচি; হেরিং বোন বড় রাস্তা নির্মাণ: বহুমুখী উদ্ধার ও অনুসন্ধান কাজের জন্য যন্ত্রপাতি, নৌ-যান সংগ্রহ, পরিচালনা ও রক্ষনাবেক্ষণ; টিআর/কাবিখা, কাবিটা; সিপিপি কর্মসূচি এবং শরণার্থী-বিষয়ক কার্যক্রম। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে এসব কর্মসূচিকে আরও সমন্বিত শক্তিশালী, গণমুখী ও কার্যকর করতে যে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে তা শুধু ইতিবাচক নয়, বাস্তবধর্মীও।
সরকার দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক সুরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের আওতায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক, বিধবা, স্বামী নিগৃহীতা নারী, দুস্থ ও অসহায় জনগোষ্ঠীর ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। হিজড়া সম্প্রদায়, বেদে জনগোষ্ঠী এবং চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে ভাতা, শিক্ষা উপবৃত্তি, প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণোত্তর সহায়তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একইসঙ্গে ভিক্ষাবৃত্তি নিরসনে পুনবার্সন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। 'চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮' এর মাধ্যমে লক্ষাধিক শিশু সুরক্ষা সেবা পেয়েছে।
বর্তমান সরকার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর কল্যাণ নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট ও স্কুল প্রতিষ্ঠা, কারিগরি শিক্ষায় স্কলারশিপ প্রদান করবে। উক্ত জনগোষ্ঠীর নিয়োগ প্রদানে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহ দেয়ার পাশাপাশি এই বিষয়ে স্বতন্ত্র অধিদপ্তর গঠন করা হবে। প্রশিক্ষণ ও প্যারা অলিম্পিকের সহায়তা সম্প্রসারণ, প্রতিবন্ধী বিষয়ক আইন কার্যকর করা এবং প্রতিবন্ধী-বান্ধব নাগরিকসেবা সম্প্রসারণ করা হবে।
নতুন সরকারের পরিকল্পনা শুধু এসবের ব্যাপ্তি বৃদ্ধি নয়, সুবিধাভোগীদের পর্যায়ক্রমে আত্মনির্ভরশীল করে মর্যাদার জীবন নিশ্চিত করা।
জনাব স্পিকার,
সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় দেশে নারী শিক্ষার প্রসারে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক এবং স্নাতক (পাস) ও সমমান পর্যন্ত উপবৃত্তি কার্যক্রম চালু রয়েছে। বর্তমান সরকার নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যায়েও অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ভালনারেবল উইমেন বেনিফিটের মাধ্যমে ১০ লাখ ৪০ হাজার জন উপকারভোগী নারীকে মাসিক ৩০ কেজি প্যাকেটজাত পুষ্টিচাল বিতরণ করছে। দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী গর্ভবর্তী মায়েদের জনপ্রতি মাসিক ৮৫০ টাকা করে ৩ বছর মেয়াদে ভাতা দেয়া হচ্ছে।
সারাদেশে নারীদের মধ্যে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১৯৭৬ সালে গঠিত মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় মহিলা সংস্থার মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের আওতায় আর্থিক সংগতিহীন নারীদের এককভাবে ২৫,০০০ টাকা থেকে ৭৫,০০০ টাকা এবং দলগতভাবে এক লাখ টাকা থেকে দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ বিতরণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। জাতীয় মহিলা সংস্থার 'নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেল'-এর মাধ্যমেও বিভিন্ন ইস্যুতে নির্যাতিত নারীদের বিনা খরচে আইনগত সহায়তা কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে বর্তমান সরকার 'ফ্যামিলি কার্ড' প্রবর্তন ছাড়াও আরও কিছু কার্যক্রম চালু করছে।
জনাব স্পিকার,
পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগস্ট ২০২৪ হতে অদ্যাবধি মোট ৬.২৪৯ একর জবরদখলকৃত বনভূমি উদ্ধার করে বনায়ন করা হয়েছে। বর্তমান সরকার আগামী পাঁচ বছরে স্বেচ্ছাশ্রম ও সরকারি উদ্যোগে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির কাজ শুরু করেছে। প্রতি বছর পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করতে বৃক্ষ চারা উৎপাদনের জন্য ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলা হবে, যা আড়াই লক্ষাধিক কর্মসংস্থান তৈরি করবে।
এই সার্বিক উদ্যোগের মাধ্যমে এই খাতে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে কমপক্ষে সাড়ে তিন লক্ষ সবুজ কর্মসংস্থান তৈরি হবে, যেখানে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ এবং গ্রামীণ জনগণ সমানভাবে অংশ নেবেন।
জনাব স্পিকার,
২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে দেশের সকল ভূমিসেবা একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ল্যান্ড সার্ভিস গেটওয়ে, ই-মিউটেশন সিস্টেম, ভূমি উন্নয়ন কর সিস্টেম, ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ ব্যবস্থাপনা সিস্টেম এবং ভূমি প্রশাসন ব্যবস্থাপনা সিস্টেমসমূহের দ্বিতীয় ভার্সন চালু করা হয়েছে। নাগরিকগণের জন্য 'ভূমিসেবা সহায়তা নির্দেশিকা, ২০২৫' এবং 'ভূমিসেবায় অভিযোগ ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা, ২০২৬' প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশে ৮৮৯টি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র এবং কল সেন্টার ১৬১২২ চালু করা হয়েছে। সরকার দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর ও সংলগ্ন এলাকায় ফ্ল্যাট ও প্লট নির্মাণের মাধ্যমে আবাসন সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি সড়ক, আউটার রিং রোড, আন্ডার পাস, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খননসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, যা নগর চলাচলে গতি আনয়ন, নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিতকরণ এবং বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। লিজ প্রদানকৃত প্লট বা ফ্ল্যাট গ্রহীতাদের লিজ পরবর্তী সম্পত্তি হস্তান্তর, নামজারি, আম-মোক্তারনামা ইত্যাদি সেবায় হয়রানি রোধকল্পে পূর্বানুমোদন গ্রহণ প্রথা বাতিল করে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বর্তমান সরকার এসব কার্যক্রম সুসংহত ও সমন্বিত করে জনগণের হয়রানি রোধ এবং দ্রুত সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার কার্যক্রম চালু করেছে। সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক এবং সহজ করতে জনগণের কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ।
জনাব স্পিকার,
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নদী তীর সংরক্ষণ ও মেরামত, নদ-নদী পুনঃখনন ও ড্রেজিং, নিষ্কাশন খাল এবং সেচ খাল খনন ও পুনঃখননের কাজ চলছে। পাশাপাশি উপকূলীয় বাঁধ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ এবং হাওর এলাকায় ডুবন্ত বাঁধের নির্মাণকাজ হাতে নেয়া হয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত 'স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি' পুনঃবাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধারের বিষয়ে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
দেশের পানি সম্পদের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চলে পানি নিরাপত্তা, বন্যা ও মরুকরণ প্রতিরোধ নিশ্চিত করা হবে। এই উদ্যোগে ৭৫ লাখ হেক্টর জমি সেচ সুবিধা পাবে এবং ৫ কোটিরও বেশি মানুষ বন্যার কবল থেকে রক্ষা পাবে।
বিদ্যমান বন্দর ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করে চট্টগ্রামের সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর, সামুদ্রিক এলাকা ও উপকূলীয় অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান সরকার চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের ওয়েটিং টাইম শূন্য পর্যায়ে রাখা গেলে বন্দর ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সাধিত হবে বলে সরকার আশা করে।
সরকার গ্রামীণ ও নগর অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও হাইজিন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছে। এলজিইডির মাধ্যমে সড়ক উন্নয়ন ও ফুটপাত, সেতু ও কালভার্ট, সাইক্লোন শেল্টার এবং উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ এবং সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। জনকল্যাণে এসব কাজ সম্পাদনে দুর্নীতি, অহেতুক বিলম্ব এবং সমন্বয়হীনতা দূর করার জন্য বর্তমান সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল এবং এ অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অগ্রগতি, অবকাঠামো এবং অন্যান্য খাতসমূহে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তিনিই প্রথম পাহাড়ী জনগোষ্ঠী ও সরকারের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনের জন্য শান্তির উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখেন।
জনাব স্পিকার,
১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার পর থেকে যুব উন্নয়নে বিশেষ করে যুবাদের আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে চলছে। বিদ্যমান কর্মসূচি ছাড়াও বর্তমান সরকার সকল মহানগর ও সারাদেশে যুব উন্নয়নে কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণসহ বিস্তারিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু করেছে। বিভিন্ন আর্থসামাজিক কর্মসূচি ছাড়াও ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বর্তমান সরকার ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, সাঁতার, কারাতে, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, অ্যাথলেটিক্সসহ বিভিন্ন খেলাধুলাকে একাডেমিক কারিকুলামে একটি আলাদা বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সারাদেশে ‘নতুন কুড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রম শুরু করেছে।
গত প্রায় দুই দশক ধরে আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সীমাহীন অধোগতি হয়েছে। সংস্কৃতির নামে নানা প্রবণতা দেশের মানুষের চেতনা ও মননে যে ক্ষতির সৃষ্টি করেছে তা খুবই উদ্বেগের বিষয়। এই সংকট দেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে বিপন্ন করে তুলেছে। এই সমস্যাকে বর্তমান সরকার বিবেচনায় নিয়েছে এবং সুস্থ ও সাবলীল গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বজায় রাখতে নানা গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। যা বাংলাদেশে নতুন চেতনার উন্মেষ ঘটাবে।
জনাব স্পিকার,
স্বাবলম্বী মুসলমানদের জন্য ফরজ হজ ব্যবস্থাপনা সহজ করার বিকল্প নেই। ২০২৫ সালে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমে মোট ৮৬,৯৯৯ জন হজযাত্রী হজব্রত পালন করেছেন। ২০২৬ সালে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৭৮,৫০০ জন হজযাত্রী হজ পালন করবেন। এ লক্ষ্যে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সকল কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। হজ যাত্রীদের ফ্লাইট খরচ কমানোর জন্য বর্তমান সরকার কার্যক্রম শুরু করেছে। এর পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি শ্রেণি পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকার সাধ্যমতো সব রকমের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বর্তমান সরকার দেশের সাড়ে তিন লক্ষাধিক মসজিদের খতিব, ইমাম-মুয়াজ্জিন সাহেবদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিকভাবে মাসিক সম্মানি প্রদানের কার্যক্রম শুরু করেছে। এই পবিত্র রমজান মাস থেকেই এটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে ১৯৯৩ সালে বিএনপি সরকার প্রবর্তিত মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম সারাদেশে আরও বিস্তৃত এবং সময়োপযোগী করা হবে।
জনাব স্পিকার,
প্রায় ৭.৫ কোটি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য শোভন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শ্রমিক অধিকার ও জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার। শ্রমিক কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে ২০ হাজারের বেশি শ্রমিক ও পরিবারের মধ্যে প্রায় ৬০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিশ্চিত করতে আইএলও কনভেনশন ১৫৫, ১৮৭ ও ১৯০ অনুসমর্থন এবং এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপে ৪৫ দেশের সমন্বয়ক হিসেবে বাংলাদেশের নির্বাচিত হওয়া দেশের শ্রম খাতের অগ্রগতির প্রতিফলন।
বর্তমান সরকার বিদ্যমান শ্রমবাজার সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দেশব্যাপী কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালু করা হবে। বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ, চাহিদাভিত্তিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে। দেশে বিদেশে প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য এবং নির্দেশনা সংবলিত ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হবে।
২০২৫ সালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিদেশে প্রেরিত কর্মীর সংখ্যা ১১ লাখ ৩১ হাজার জন। বর্তমান সরকার পাঁচ বছরে এক কোটি জনশক্তি বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। উপজেলায় তালিকাভুক্তদের প্রশিক্ষণ, ভাতা প্রদান ও দরিদ্রদের শূন্য/ন্যূনতম খরচে প্রবাসে প্রেরণ করা হবে। চাকরি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার পথ সুগম করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনানুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করা হবে। ব্যাংক পেমেন্ট গেটওয়েতে যুক্ত থাকবে, থাকবে সহজ রেমিট্যান্স প্রেরণের সুবিধা। রেমিট্যান্সে বাড়তি প্রণোদনা পাওয়া যাবে এবং দেশে ফেরত প্রবাসীদের সামাজিক সুরক্ষা প্রদান করা হবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রবাসী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সদস্যপদ দেয়া হবে। মৃত্যু/দুর্ঘটনা/চাকরি হারালে সহায়তা দেয়া হবে। উদ্যোক্তা সহায়তায় এসএমই/ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রাপ্তির সুযোগ থাকবে। দেশে ফেরত প্রবাসীদের কর্মসংস্থান ও পরিবারের শিক্ষা-স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেয়া হবে। পুনরায় বিদেশযাত্রায় সহায়তা দেয়া হবে।
বর্তমান সরকার প্রবাসী কর্মজীবীদের জন্য ওভারসিজ স্কিলস ইনভেস্টমেন্ট পার্ক, মাইগ্রেশন মার্কেট ডেটাবেজ তৈরি, ওয়েলফেয়ার বোর্ডের অধীনে ‘ওয়ান-স্টপ প্রবাসী সাপোর্ট সেন্টার’ স্থাপন এবং রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ ই-লার্নিং সেন্টার স্থাপন করবে। দক্ষ কর্মীদের ডিজিটাল দূতাবাসগুলোতে সাপোর্ট সেন্টার ও লিগ্যাল ডিভিশন চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহে ৬০ লাখেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থায় তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে এই অঞ্চলের দেশসমূহের সঙ্গে সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
জনাব স্পিকার,
বর্তমানে মাতৃ ও শিশুমৃত্যু হ্রাস পেয়ে গড় আয়ু ৭২ দশমিক ৪ বছরে উন্নীত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি, অপচয় ও অবহেলা রোধ করে গণমুখী স্বাস্থ্য সচেতনতা ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদার করে কাজ শুরু করেছে। স্বাস্থ্যখাতে সরকারের পর্যায়ক্রমে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। নাগরিক স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ নীতি অবলম্বন করেছে। এরই অংশ হিসেবে সরকার সারাদেশে পর্যায়ক্রমে এক লাখ ‘হেলথ কেয়ারার’ নিয়োগ করতে যাচ্ছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ ‘হেলথ কেয়ারার’ হবেন নারী। নাগরিকদের জন্য ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ড, বিনামূল্যে মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপন, ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহ নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যখাতে জাতীয় অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা, সমন্বিত ও আধুনিক পুষ্টি কর্মসূচি বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
জনাব স্পিকার,
সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানসম্মত ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংস্কার, পাঠক্রম হালনাগাদ, সময়মতো পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, অনলাইনে বেতন-ভাতা ও উপবৃত্তি প্রদান এবং অবকাঠামো উন্নয়ন করেছে। ৬২টি জেলার ১৯,৪৯০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩.১৩ মিলিয়ন শিক্ষার্থীদের জন্য সপ্তাহে ৫ দিন পুষ্টিকর খাবার বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি ১১ গ্রেড থেকে ১০ গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। ৬,৫৩১ কোন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। উপবৃত্তির অর্থ বাবদ ৬০০ কোটি টাকা শিক্ষার্থীর আরসাইকের মোবাইলে বিতরণ করা হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে সরকার বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসাসমূহে একসঙ্গে ১৬ হাজার শিক্ষককে নিয়োগ প্রদান করেছে এবং এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বর্তমান সরকার স্কুল পর্যায় থেকেই এমন একটি নৈতিক মানসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়নতে চায় যেখানে শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী তৈরি হবে না। কোনো কারণে শিক্ষাবর্ষের যে-কোনে বয় থেকে কোনো শিক্ষার্থী ড্রপ আউট হয়ে গেলেও যাতে বেকার থাকতে না হয় সেটি মাথায় রেখেই ব্যবহারিক এবং কারিগরি শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে শিক্ষা কারিকুলামে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সমগ্র শিক্ষা খাতকে উন্নত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা হবে। শিক্ষার সকল স্তরে শিক্ষার মান অবশ্যই বজায় রাখা হবে। তবে, প্রাথমিক শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হবে। ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস, বাধ্যতামূলক তৃতীয় দিবসগুলোতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল এবং মাদ্রাসা শিক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।
ইন্টার্নশিপ ও ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা, সিড ফান্ডিং ও ইনোভেশন গ্রান্ট, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য স্টুডেন্ট লোন এবং ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি ও এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার সর্বাত্মক উন্নয়ন ও সম্ভাব্যতা নিশ্চিত করা হবে।
জনাব স্পিকার,
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বর্তমান কার্যক্রমকে সর্বাধুনিক তথ্য নির্ভর করে ঢেলে সাজানো হবে। প্রচলিত গণমাধ্যমের পাশাপাশি নিউ মিডিয়াকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবহার করা হবে। জনগণের তথ্য প্রাপ্তির অধিকারকে নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপতথ্য রোধে উদ্যোগ নেয়া হবে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণ, উন্নত টেলিযোগাযোগ সেবা এবং নিরাপদ ও টেকসই প্রযুক্তির উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে সরকার কাজ করছে। বর্তমানে দেশের মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১৮.৫৮ কোটি এবং ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১২.৯০ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে দেশের টেলিডেনসিটি ১০৫.৭১ শতাংশ এবং ইন্টারনেট ডেনসিটি ৭৩.২৮ শতাংশ। সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে বর্তমানে ৪০ টাকারও নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে।
বর্তমান সরকার তথ্য ও প্রযুক্তি খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ লক্ষ্য পূরণে সরকার বাংলাদেশকে বৈশ্বিক পর্যায়ে একটি অন্যতম এআই হাব ও হার্ডওয়্যার উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করবে। এই খাতে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সবার জন্য দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা হবে। ভবিষ্যতের গ্রাহক ও ব্যবসায়িক চাহিলাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে একটি যুগোপযোগী ‘কানো পুভিটি মাস্টার প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করবে। জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা, সাইবার বুলিং প্রতিরোধ ও নাগরিক তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি পেপালসহ প্রযুক্তিভিত্তিক ক্যাশ-লাইট অর্থনীতি, ক্লাউড-ফার্স্ট প্রযুক্তির আওতায় দেশে প্রথম এআই-চালিত ডেটা সেন্টার স্থাপন এবং বাংলাদেশকে গুগল, ফেসবুক, অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানের ‘এজ ডেটা সেন্টার হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য প্রতিবন্ধীসহ যুবক-যুবতী, উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপদের জন্য প্রশিক্ষণ, অনুদান ও মেন্টরশিপ চালু করা হয়েছে। দেশব্যাপী ই-সেবা প্রদানে ন্যাশনাল পোর্টাল ফ্রেমওয়ার্ক ২.০ চালুকরণসহ ব্রডব্যান্ড কানেক্টিভিটি, স্কুল ল্যাব, মুক্তপাঠ ই-লার্নিং, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও মাইগভ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিকসেবা সহজীকরণের পাশাপাশি অনলাইন সত্যায়ন, ই-টিকেটিং ও একপে সুবিধা প্রসারিত করা হয়েছে। বিনিয়োগবান্ধব নীতি, স্টার্টআপ ও উদ্ভাবন ফান্ড, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা এবং সাশ্রয়ী সেবা প্রদান নিশ্চিত করা হবে। বন্ধ পাটকলসহ অন্যান্য কলকারখানা পর্যায়ক্রমে চালুর মাধ্যমে কর্মসৃজনের ব্যবস্থা করা হবে।
জনাব স্পিকার,
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জীবাশ্ম জ্বালানিসহ আমদানিভিত্তিক জ্বালানির উপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি হতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির উপর সরকার গুরুত্বারোপ করেছে। কিলোমিটারে সম্প্রসারণ করবে। ফ্যাসিস্ট সরকারের নজিরবিহীন দুর্নীতির কারণে জাতির উপর জ্বালানি বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত উন্নয়নে উৎপাদন ও সঞ্চালন সক্ষমতা বৃদ্ধিকল্পে ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩৫,০০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা এবং সঞ্চালন লাইন ২৫,০০০ সার্কিট করে অপ্রয়োজনীয় ও অযৌক্তিক ব্যয় হ্রাস এবং স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা হবে। লিস্ট কস্ট জেনারেশন খাতে বিশাল অঙ্কের দায় এসে পড়েছে। ক্যাপাসিটি চার্জসহ রেন্টাল ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তিসমূহ পর্যালোচনা বাস্তবায়ন, এনার্জি অডিট পরিচালনা এবং আমদানি নির্ভরতা হ্রাস করা হবে। জ্বালানি খাতে গোপন চুক্তির অবসান ও ৫০ লাখ টন পরিশোধন সক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ক্রুড অয়েল রিফাইনারি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও বাপেক্স শক্তিশালীকরণ, স্বচ্ছ ট্যারিফ ব্যবস্থা, গ্যাস বিতরণ ও মূল্যনীতি সংস্কার করা হবে। আন্তঃদেশীয় জ্বালানি সংযোগ এবং জ্বালানি বৈষম্য হ্রাস নিশ্চিত করা হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সবুজ অর্থায়ন ও কর প্রণোদনা অংশ বৃদ্ধিসহ পানি-বিদ্যুৎ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা, রূপপুর প্রকল্প পর্যালোচনাসহ পারমাণবিক শক্তি এবং বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদন প্রকল্প চালু করা হবে।
২০২৫ থেকে অদ্যাবধি ১,৭০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার মাধ্যমে গ্রিড ভিত্তিক স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩২,৩৩২ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। একইসঙ্গে সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। চলতি বছরেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হবে। অনুসন্ধান, উৎপাদন, আমদানি এবং দক্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সবার জন্য সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও টেকসই জ্বালানি নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। ২০২৬ সালে ৩১টি কূপ খননের মাধ্যমে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি করে ৩২৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করা হবে। উৎপাদন বণ্টন চুক্তির আওতায় স্থলভাগ ও সমুদ্রাঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে শিগগিরই বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হবে। এ ছাড়া, বাপেক্সকে শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে অতিরিক্ত দুটি রিগ ক্রয়সহ জনবলকে উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
জনাব স্পিকার,
দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে নিরাপদ, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সরকার কাজ করবে। বর্তমানে ২২,৭২৪ কিলোমিটার মহাসড়কের মাধ্যমে রাজধানীর সঙ্গে দেশব্যাপী সংযোগ জোরদার করা হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিতকল্পে দেশের জাতীয় মহাসড়কসমূহে পর্যায়ক্রমে ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম স্থাপন করা হচ্ছে।
বর্তমান সরকার যোগাযোগ ও পরিবহণ খাতে সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড গড়ে তুলবে। রুট রেশনালাইজেশন, যানজট নিরসন, গণপরিবহণের মান উন্নয়ন, অ্যাক্সেল লোড করান্ত্রণ, ওভারপাস-আন্ডারপাস ও সেতু নির্মাণ করা হবে। নৌপরিবহণ ব্যবস্থায় বৃত্তাকার জলপথ, নদী ও সাইদের সংযোগ, আধুনিক ওয়াটার হাইওয়ে নির্মাণ করা হবে। উপকূলীয় যোগাযোগ উন্নয়ন এবং নৌপথে মাটির ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, রেল পরিচালনা আসুকান ও এক্সপ্রেস সার্ভিস বৃদ্ধি করা হবে। এই খাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, মেট্রোরেল ও দুপায় বিশেষ ছাড়, মনোরেল ও বুলেট ট্রেন সংযোগ স্থাপন করা হবে। বিমান পরিবহণ ব্যবস্থায় নিরাপদ কার্গো ও হয়রানিমুক্ত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা হবে। ইতোমধ্যে হজ যাত্রীদের বিমান ভাড়া কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা, বেসরকারি এয়ারলাইনকে নীতিগত সহায়তা এবং এভিয়েশন শিক্ষায় গুরুত্বারোপ করা হবে। সরকার পর্যটন খাতকে গুরুত্ব দিয়ে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশকে আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
২০২৫ সালে ১,৬০৭ জন সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারকে ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে ৭০ কোটি ৬১ লাখ টাকা সহায়তা দেয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার সড়ক নিরাপত্তা আইন ও দুর্ঘটনারোধে, যাত্রী নিরাপত্তা, সড়ক পরিবহণ বিমা এবং শ্রমিকদের ইউনিফর্ম নিশ্চিত করবে। পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই যোগাযোগ এবং পরিবহণ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করা হয়েছে।
পদ্মা সেতুতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন সিস্টেমের মাধ্যমে ননস্টপ ক্যাশলেস টোল আদায় সেবা চালু করা হয়েছে। যমুনা সেতুতে বিদ্যমান রেলওয়ে ট্র্যাক অপসারণের মাধ্যমে সেতুর প্রশস্ততা বৃদ্ধির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সারাদেশকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে।
নিরাপদ, সাশ্রয়ী, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব রেলওয়ে পরিবহণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে ই টিকেটের আধুনিকীকরণ, কমিউটার ট্রেন চালু ও নারীদের জন্য পৃথক কোচ সংরক্ষণ করা হয়েছে। অবৈধ দখলকৃত ভূমি উদ্ধার ও বরাদ্দ প্রদান, রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমি আধুনিকীকরণ, ব্রডগেজ ও মিটারগেজ লোকোমোটিভ, ওয়াগন ও লাগেজ ভ্যান সংগ্রহ করা হয়েছে।
বর্তমান সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাব ও পর্যটন গন্তব্যে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় পর্যটন দিবসকে ‘গ’ শ্রেণি থেকে ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পের কাজ প্রায় সমাপ্ত হয়েছে। সরকার খুব শিগগিরই তা চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে।
জনাব স্পিকার,
মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠন ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনকে শক্তিশালীকরণ, জবাবদিহিমূলক ও দলীয়করণমুক্ত জনপ্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ৩০ থেকে ৩২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
জনাব স্পিকার,
বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দলীয় বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’ গঠন করেছে। বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সম্পূর্ণ পেশাদার, আধুনিক এবং দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। সেবাবান্ধব পুলিশ গঠন, পুলিশের নৈতিক মনোবল পুনর্গঠন, অনলাইন অভিযোগ দায়ের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ পুনঃনিরীক্ষণ করা হবে।
২০২৫ সালে ৭৯১ জনকে সাব-ইন্সপেক্টর পদে, ৮.০১১ জনকে কনস্টেবল পদে নিয়োগ করা হয়েছে। একইবছরে কনস্টেবল হতে এসআই পর্যন্ত বিভিন্ন পদে সর্বমোট ৩,৫৬০ জন সদস্যকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমান সরকার পুলিশে আরও ৪ হাজার সাব-ইন্সপেক্টর এবং ১০ হাজার নতুন কনস্টেবল নিয়োগ দেবে। একইসঙ্গে পুলিশ সার্জেন্টের ১৮০টি শূন্যপদে নিয়োগ চূড়ান্ত করবে। দেশে কারাগার ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে পাঁচটি নতুন কারাগার চালু করা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা, ‘১৬১৯১’ কল সেন্টার, ডিজিটাল বন্দি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন বর্তমান সরকারের সর্ব্বোচ্চ অগ্রাধিকার। দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে ঘরে-বাইরে শান্তি, স্বস্তি এবং নিরাপত্তা বোধ করেন এটি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই সরকার সকল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ হিসেবে বর্তমান সরকার অনলাইন জুয়াসহ সকল ধরনের জুয়া এবং মাদকের বিস্তারকে চিহ্নিত করেছে। ফলে জুয়া এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার সারাদেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনা শুরু করেছে। একইসঙ্গে অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ, ধারালো অস্ত্র ও হাতবোমা উদ্ধার এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার অভিযান চলবে। এ ছাড়া চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হবে। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্টসমূহ এবং কোস্ট গার্ড ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলছে।
জনাব স্পিকার,
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নির্বাচন সহায়তা, বন্যার্তদের উদ্ধার ও পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পার্বত্য অঞ্চল ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের ক্যাম্পে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ক্ষেত্রেও তাদের সাফল্য উল্লেখযোগ্য।
বর্তমান সরকার মনে করে সুশৃঙ্খল, রাজনীতিমুক্ত ও যুগোপযোগী সক্ষমতায় গড়ে ওঠা প্রতিরক্ষা বাহিনীই কেবল দেশকে নিরাপদ রাখতে পারে। ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারে সুশৃঙ্খল ও আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলে চতুর্মাত্রিক সক্ষমতা ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ক্ষমতা নিশ্চিত করা হবে। সেই লক্ষ্যে বর্তমান সরকার একটি জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করবে। এতে মাল্টি-যেমন যুদ্ধ সক্ষমতা, স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর শক্তিমত্তা এবং দেশীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অগ্রায়ার দেওয়া হবে। বিমান বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিকে ‘জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ’ বিষয় হিসেবে বিনো করে ফাস্ট ট্র্যাক প্রক্রিয়ায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে। সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সক্ষম নৌবাহিনী এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন করা হবে। অপরদিকে চলমান সময়ের অর্থনৈতিক চাহিদার সঙ্গে কার্যকর করা হবে। খাপ খাইয়ে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের জন্য ‘ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন (ওআরওপি)’ নীতি কার্যকর করা হবে।
সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতিতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক ও প্রতিরোধমূলক কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব হুমকি সম্পূর্ণরূপে দমন করা হবে।
জনাব স্পিকার,
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। বর্তমান সরকার বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, মামলার জট হ্রাস ও বিচারপ্রাপ্তি হয়রানিমুক্তকরণ, দুর্নীতিমুক্তকরণে বিচারসেবার আধুনিকায়ন, বিচারপতি নিয়োগ আইন প্রণয়ন, জুডিশিয়াল কমিশন গঠন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা রক্ষায় কাজ করছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে ২০টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।
জনাব স্পিকার,
ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন-‘সবার আগে বাংলাদেশ’। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনগণের কল্যাণ সর্বাগ্রে প্রাধান্য পাবে। সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে সমতা, ন্যায্যতা, বাস্তবধর্মী, পারস্পরিক স্বার্থের স্বীকৃতিভিত্তিক এবং আন্তর্জাতিক বিধি-বিধান অনুযায়ী দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার নীতি অনুসৃত হবে। বাংলাদেশ অন্য কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না এবং অন্য কোনো রাষ্ট্রকেও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে দেবে না। অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং অভিবাসন কূটনীতির উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হবে। রপ্তানি বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং শুল্ক ও বাণিজ্য সুবিধা রক্ষায় কার্যকর কূটনীতি গ্রহণ করা হবে।
মুসলিম বিশ্বসহ জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করা হবে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে শক্তিশালী ভূমিকা গ্রহণ করা হবে। আসিয়ানের পূর্ণ সদস্যপদ অর্জন ও সার্ক কার্যকর করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। সার্ক ও আসিয়ান অঞ্চলের পাশাপাশি আমেরিকা, ইউরোপ, প্রাচ্য, দূরপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ওশেনিয়া অঞ্চলের দেশ এবং অর্থনৈতিক জোটগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং প্রতিবেশী দেশসমূহের সঙ্গে যৌথভাবে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য শক্তিশালী পদক্ষেপ নেয়া হবে। সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বন্ধসহ সকল অন্যায্য কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাংলাদেশ সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ও দূতাবাসসমূহে জনবল, ব্যবস্থাপনা, দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাড়তি নিয়োগ, বিদেশে মিশন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
জনাব স্পিকার,
ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের প্রতি জন-আস্থা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের সরকার আগামী দিনের নির্বাচনি কার্যক্রমে সেটি সমুন্নত রাখবে। নির্বাচন কমিশনের মতো দেশের আস্থা ফিরে এসেছে। নির্বাচন কমিশন যাতে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসে বলীয়ান থাকতে পারে বর্তমান প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে আইনানুযায়ী স্বাধীনভাবে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে বর্তমান সরকার সেটি নিশ্চিত করবে।
বর্তমানে দেশে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ। সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ‘Postal Vote BD’ অ্যাপের মাধ্যমে ১৫ লাখের বেশি প্রবাসী নিবন্ধিত হয়েছেন। এটি নির্বাচন কমিশনের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
জনাব স্পিকার,
জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। রাষ্ট্র পরিচালনার সকল কার্যক্রমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও চর্চার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সরকার একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে চলছে। এক্ষেত্রে নবগঠিত সরকারের সামনে দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই বিরাট চ্যালেঞ্জ। পথ কঠিন হলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই বাধা অতিক্রম অসম্ভব নয়। সরকারি এবং বিরোধী দলগুলো ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করলে খুব সহজেই দ্রুততার সঙ্গে লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে। যেসব পরিকল্পনাকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার জনরায়ে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে, সে অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। জাতীয় অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলীয় সম্মানিত সংসদ সদস্যগণ জাতির নিকট দায়বদ্ধ। ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়-এ বিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই মিলেমিশে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে আমরাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠন করতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ।
জনাব স্পিকার,
আপনাকে ও আপনার মাধ্যমে প্রিয় দেশবাসী এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সা আবারও ধন্যবাদ জানিয়ে এবং নতুন সংসদের সাফল্য কামনা করে আমার বক্তব্য শেষ করছি।
আল্লাহ হাফেজ
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।

নিজস্ব প্রতিবেদক