বোতল কুড়িয়ে সংসার চালানো দম্পতির দায়িত্ব নিলেন যুবদলনেতা
জামালপুরে প্লাস্টিকের বোতল কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করা অসহায় এক বৃদ্ধ দম্পতির আজীবন দায়িত্ব নিয়েছেন এক যুবদলনেতা। মানবিক এই উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে শহরের বাগেরহাটা বটতলা মোড়ে অবস্থিত জামালপুর জেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী সোহেল রানা খান আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন।
এ সময় ওই বৃদ্ধ দম্পতির হাতে এক বস্তা চাল, দুই লিটার ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি, আদা, সাবান, পেঁয়াজ, আলু, সেমাই, মুরগি, শাড়ি, লুঙ্গিসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৭৫ বছর বয়সী চাঁন মিয়া ও তার স্ত্রী কুলসুম বেগমের বাড়ি শহরের বাগেরহাটা বটতলা এলাকায়। এক সময় রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন তিনি। সেই আয়ে ছোট্ট হলেও স্বাভাবিকভাবে চলছিল তাদের সংসার। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর আর আগের মতো সাড়া দেয় না। কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলায় ধীরে ধীরে দারিদ্র্যের চক্রে পড়ে তার পরিবার।
এই দম্পতির এক ছেলে ও দুই মেয়ে থাকলেও কেউই বর্তমানে তাদের খোঁজখবর রাখেন না। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাই অনেকটা একাকী ও অসহায় অবস্থায় দিন পার করছেন এই বৃদ্ধ দম্পতি।
সংসারের ন্যূনতম চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জামালপুর শহরের বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও অলিগলিতে ঘুরে খালি প্লাস্টিকের বোতল, কাগজ ও পরিত্যক্ত জিনিসপত্র কুড়িয়ে বেড়ান তারা। পরে সেগুলো বিক্রি করে দিনে যৎসামান্য আয় হয়। এই আয় দিয়েই কোনো রকমে তাদের দুবেলা খাবারের ব্যবস্থা হয়।
এই দম্পতির এমন করুণ জীবনযাপনের খবর পেয়ে তাদের পাশে দাঁড়ান জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা খান। তিনি বৃদ্ধ দম্পতির আজীবন দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিলে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন চাঁন মিয়া।
আবেগাপ্লুত হয়ে চাঁন মিয়া বলেন, জীবনটা একেবারে কষ্টে ভরা আছিল। দুই বুড়া-বুড়ি সারাদিন বোতল কুড়াইয়া যা পাইতাম তাই দিয়া কোনোমতে ভাত খাইতাম। ভবিষ্যতের কোনো ভরসা ছিল না। অহন মনে অয় আল্লাহ আমাদের জন্য একটা রাস্তা খুলে দিছে। এখন আমরা একটু নিশ্চিন্তে থাকতে পারমু।
এ বিষয়ে সোহেল রানা খান বলেন, আমাদের সমাজে অনেক অসহায় মানুষ রয়েছেন যারা চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। আমরা যারা একটু স্বচ্ছল অবস্থায় আছি, সবাই যদি অন্তত একজন করে অসহায় মানুষের দায়িত্ব গ্রহণ করি তাহলে সমাজে কষ্ট অনেকটাই কমে যাবে।
সোহেল রানা আরও বলেন, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমি এই বৃদ্ধ দম্পতির দায়িত্ব নিয়েছি। বিএনপির আদর্শ ও তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সবসময় অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। ভবিষ্যতেও সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

নাহিদ হাসান, জামালপুর (সদর-মেলান্দহ)