অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের সুযোগ নেই : আইনমন্ত্রী
ধর্ষণ বা যেকোনো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, অপরাধীদের আশ্রয়দাতা ও সহযোগীদের আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় অপরাধীদের আশ্রয়ের কোনো সুযোগ নেই।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সংসদ সদস্য ও জেলায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, নরসিংদীর চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় জড়িতদের যদি কেউ আশ্রয় দেয় তাহলে তাদের শেকড় উপড়ে ফেলা হবে। মাগুরার চাঞ্চল্যকর আছিয়া হত্যাকাণ্ডের সময় অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলাম। দ্রুত আছিয়া হত্যার বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে। নরসিংদী ও ঝিনাইদহের ধর্ষণ ও হত্যা মামলাও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে। অপরাধীরা আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি পাবে।
আরও পড়ুন : বাড়ির উঠানে মিলল দাদির মরদেহ, সরিষাক্ষেতে নাতনির
দুর্নীতি বন্ধে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কঠোর অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এই সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। যারা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হবে তাদের শুধু চাকরিই যাবে না, বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি দুদকের মাধ্যমেও মামলাও করা হবে। এ সময় জনগণের জন্য উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার হিসাব কড়ায়-গন্ডায় বুঝে নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন আইনমন্ত্রী।
আসাদুজ্জামান আরও বলেন, কেউ যদি এক পয়সা কমিশন নেয় বা দুর্নীতি করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কমিশন বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের নির্মূলে সরকার ও বিরোধীদল ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে বলেও উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী।
আইনমন্ত্রী বলেন, আজকের পর থেকে ঝিনাইদহে যারা চাঁদাবাজি, কমিশন বাণিজ্য, হুমকি-ধামকি কিংবা রাজনৈতিক দলাদলি করার চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেকোনো অনিয়মের কথা আমাকে জানাবেন; দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদক নির্মূলে সবাই একসঙ্গে কাজ করব।
আসাদুজ্জামান আরও বলেন, অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে সাংবিধানিকভাবে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। আগামী সংসদের প্রথম অধিবেশনেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রত্যেকটা অধ্যাদেশই আমরা বিল আকারে পেশ করব।
এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের স্মরণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, তাদের অমর্যাদা এই সরকার মেনে নেবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে যে বা যারা যতটুকু অপরাধ করেছে, সেজন্য তাদের শাস্তি পেতে হবে। ফ্যাসিস্ট ও গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের আইনগত প্রক্রিয়ার ফাকফোঁকর দিয়ে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের তাজা রক্তের বিনিময়ে দেশে একটি নির্বাচন হয়েছে; আমরা একটি সরকার পেয়েছি। জুলাই শহীদদের অমর্যাদা হয় বা তাদের আত্মা কষ্ট পায় এমন কোন কর্মকাণ্ড এই সরকার মেনে নেবে না।
মতবিনিময় সভায় ঝিনাইদহ-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবুবকর; ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালেব; জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ ও পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজালসহ জেলার অনান্য সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)