ময়মনসিংহে কলেজছাত্র শাওন হত্যায় গ্রেপ্তার ৬
ময়মনসিংহের সরকারি আনন্দমোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন (২৬) হত্যা মামলার ৬ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকা থেকে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার মধ্যরাতে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ এক বার্তায় এই খবর জানিয়েছে।
গ্রেপ্তারতাররা হলেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের বিনপাড়া গ্রামের বিশাল বিন (১৪), রাজ বিন (১৩), বিশাল বিন (১৫), দেবরাজ বিন (১৪), হৃদয় বিন (১৫) ও বিপুল বিন (১৬)। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত আছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
জেলা পুলিশের ওই বার্তায় জানানো হয়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল পাঁচটার দিকে শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন (২৬) এবং তার রুমমেট মন্জুরুল আহসান রিয়াদ (২৩) ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে ঘুরতে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার হন। এ সময় মন্জুরুল আহসান রিয়াদ পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও নুরুল্লাহ শাওন নিখোঁজ হন।
খবর পেয়ে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ এবং ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসর একটি ডুবুরি দল ব্রহ্মপুত্র নদ ও আশপাশ এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেও শাওনের খোঁজ পাওয় যায়নি। পরের দিন শাওনের মা নাহিদা আক্তার ওরফে সাহিদা বেগম সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে নুরুল্লাহ শাওনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং লাশের সুরতহাল প্রস্তুত করে পোস্টমর্টেমের জন্য মমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ প্রশাসন ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি চৌকশ টিম গঠন করেন। সেই টিম ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেল পাঁচটার দিকে নেত্রকোনা জেলার সদর থানাধীন সাতপাই এলাকা থেকে দেবরাজ বিন (১৪) ও জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারতী এলাকা হতে হৃদয় বিন (১৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাজ বিন (১৩), বিশাল বিন (১৫) ও বিপুল বিন (১৬) কে কোতোয়ালি থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়।
এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে ফুলদিতে আসা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের গাড়িবহর আটকে দিয়ে শাওন হত্যার বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তার দাবি করেন তার সহপাঠিরা।

আইয়ুব আলী, ময়মনসিংহ