১১ দল গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে : হামিদুর
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আগামী বছর সংসদে গঠনমূলক ও কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়কারী হামিদুর রহমান আযাদ। আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
এর আগে জোটের ১১দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত তিনি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ১১ দলের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত সুস্পষ্ট যে, আমরা সংসদে গঠনমূলক বিরোধী দল হিসাবে ভূমিকা পালন করব। জনস্বার্থে, দেশের স্বার্থে নতুন সংসদ কার্যকর করার ক্ষেত্রে আমরা আন্তরিক হব। সেক্ষেত্রে আমরা সবার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই, এ ক্ষেত্রে যদি বাধা প্রাপ্ত হই, কেউ যদি আইনানুগ না হয়ে ভিন্নভাবে দাবিয়ে দিতে চায় সেক্ষেত্রে আমরা রাজপথে আছি।
১১ দলের ঐক্যের হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গতকালই আমাদের কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমাদের ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য ছিল। এটা ১১ দলীয় ঐক্য হিসেবে সংসদে ও সংসদের বাইরে ভূমিকা পালন করবে—এই সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ আমাদের সংসদের ভূমিকা আমরা যৌথভাবে করব। আমরা যৌথভাবে নির্বাচন করেছি, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যখন যে ভূমিকা রাখা উচিত দেশের স্বার্থে, জনস্বার্থে, জাতির স্বার্থে আমরা সে ভূমিকা একসাথেই পালন করব। তিনি বলেন, নির্বাচনে নানা অনিয়মের, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রশ্ন উঠেছে। এই নির্বাচনে ফলাফল কারচুপির কথা উঠেছে। যেগুলোর কিছু প্রমাণ হচ্ছে। সেখানে আমরা আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বন করব। আরপিও অনুযায়ী যে প্রসেস আছে, সে অনুযায়ী আমরা যেসব আসনে কারচুপি হয়েছে, এভিডেন্স আছে, স্বল্প ব্যবধানে হারানো হয়েছে বা ফলাফলের ব্যবধান দেখানো হয়েছে জয় পরাজয়ের ক্ষেত্রে, সে আসনগুলো চিহ্নিত করে স্ব স্ব আসন থেকে পুনর্গণনা বা রিকাউন্টিংয়ের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আমরা বলেছিলাম গেজেট প্রকাশের পূর্বে সে আসনগুলোর আবেদন গ্রহণ করে ফলাফল স্থগিত রেখে আবারও গণনার ব্যবস্থা করা হোক। নির্বাচন কমিশন যেটা করেছে—১২ তারিখ নির্বাচন হয়ে গেল, ১৩ তারিখ গভীর রাতে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। একেবারে তড়িঘড়ি করে। যে কারণে অনেকে আবেদন করার সুযোগ পেয়েছে, অনেকে পান নাই। কারণ নির্বাচনি মাঠ থেকে ঢাকায় এসে এটা করতে হয়েছে।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোট হয়েছে। যে চারটি প্রশ্নের ওপর গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী, সেখানে দ্বিতীয় প্রশ্ন যেটা আছে—উচ্চকক্ষে প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে ১০০ জন সদস্য প্রত্যেক দল তার দল থেকে আনুপাতিক হারে আসন পাবেন। এখানে কোনো দলে যদি নোট অব ডিসেন্ট থাকে আসন ভিত্তিতে তারা করবেন, এটার সুযোগ নাই।
আমাদের জনগণ এটা রিজেক্ট করে দিয়েছে মন্তব্য করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘না’ জয়যুক্ত হলে এটা সুযোগ ছিল। যেহেতু ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে তাহলে জনগণ এসব নোট অব ডিসেন্ট নাকচ করে দিয়েছে। ফলে প্রপোরশনেট প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে ১০০ আসন নির্ধারিত হবে—এটাই এখন ভ্যালিড।
উচ্চকক্ষের বিষয়টি নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি করার সুযোগ নাই মন্তব্য করে আযাদ বলেন, বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। অবশ্যই এ ব্যাপারে যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ নেয়। যে জনগণকে সামনে রেখে রাজনীতি, যে জনগণের ভোটে রেফারেন্ডাম অনুমোদন পাস, যে জনগণের ভোটে পার্লামেন্ট গঠিত, সেই পার্লামেন্ট জনমতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে না। এটা যদি হয় তাহলে সংস্কার রিফিউজ করা হয়ে যায়। সেটা যেন কোনোভাবে না ঘটে আমরা সুস্পষ্টভাবে দাবি জানাচ্ছি। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে নির্বাচনের পরে অনেক জায়গায় সহিংসতা হয়েছে। যারা ১১ দলের পক্ষে কাজ করেছে তাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে।
উত্থাপিত অভিযোগ নিয়ে আগামীকাল রোববার নির্বাচন কমিশনে যাবেন বলে জানান জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি আরও বলেন, ৩০-এর অধিক আসন যেখানে কারচুপির সুস্পষ্ট তথ্য আমাদের কাছে আছে, সেগুলো নিয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আগামীকাল কথা বলবো।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আমরা আরেকটা সংবাদ পেয়েছি এটা আপনারাও দেখেছেন যে ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসন করার একটা চেষ্টা হচ্ছে। যেমন পঞ্চগড়ে আওয়ামী লীগের অফিস উদ্বোধন করছে বিএনপির এক নেতা। এরপরে মুন্সীগঞ্জে ঘটেছে। বিভিন্ন জায়গায় ঘটতেছে। তাহলে আমরা কি আবার সেই একই কায়দায় দেশটাকে নিয়ে যেতে চাই কি না? নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন কি স্বপ্নই রয়ে যাবে? প্রতিশ্রুতি কি শুধু কাগজে কলমে থাকবে? জনগণের ভোট পাওয়ার জন্য কি আমরা এই কমিটমেন্টগুলো দিয়েছিলাম? এটা জাতির কাছে একটা বড় প্রশ্ন।

নিজস্ব প্রতিবেদক