থাই উপকূলে কার্গো জাহাজডুবি : ১৬ বাংলাদেশি নাবিক উদ্ধার
মালয়েশিয়া থেকে কনটেইনারভর্তি পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পথে থাইল্যান্ডের ফুকেট উপকূলে পানামার পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে জাহাজে থাকা ১৬ জন বাংলাদেশি নাবিককে জীবিত উদ্ধার করেছে থাই নৌবাহিনী। বর্তমানে তারা ফুকেটের একটি হোটেলে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন।
জাহাজটির বাংলাদেশি এজেন্ট আলভি লাইনস বাংলাদেশ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং থেকে ২২৯টি (মতান্তরে ২৯৭টি) কনটেইনার নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল এমভি সিলয়েড আর্ক। থাইল্যান্ডের ফুকেট উপকূল থেকে প্রায় চার নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থানকালে জাহাজটি হঠাৎ কাত হয়ে পড়ে এবং পানি ঢুকতে শুরু করে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে জাহাজের মাস্টার ক্যাপ্টেন শেখ মুনির আহমেদ ‘অ্যাব্যান্ডন শিপ’ (জাহাজ ত্যাগ) ঘোষণা করে জরুরি সংকেত পাঠান।
থাই মেরিটাইম রেসকিউ সাব-সেন্টার সংকেত পেয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের মধ্যে একটি মাছ ধরার নৌকা এবং থাই নৌবাহিনীর টহল জাহাজের সহায়তায় সব নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
জয়েন্ট মেরিটাইম রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের (জেএমআরসিসি) সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন জানান, থাই কর্তৃপক্ষের ত্বরিত পদক্ষেপের কারণে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং উদ্ধার হওয়া সব নাবিক শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ আছেন।
এদিকে জাহাজটি পুরোপুরি ডুবে যাওয়ায় সেখানে তেল নিঃসরণ শনাক্ত করেছে থাই কর্তৃপক্ষ। পরিবেশ বিপর্যয় রোধে থাই নৌবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ শুরু করেছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক সিলয়েড শিপিং লাইনসের মালিকানাধীন এই জাহাজটি বাংলাদেশের নাফ মেরিন সার্ভিসেসের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর উদ্ধারকৃত নাবিকদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে জেএমআরসিসি।

আরিচ আহমেদ শাহ, চট্টগ্রাম