নারীবান্ধব বাস ও মনোরেল চালু করা হবে, বিএনপির ইশতেহার
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মেট্রোরেলের পাশাপাশি মনোরেল ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর ফলে, রাজধানী ও তার কাছাকাছি বিভিন্ন স্থানগুলোকে আরও সহজে ও নিরাপদে সংযুক্ত করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া নারীবান্ধব বাস চালু করা হবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ছয় দিন আগে আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে তিনটায় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এক অনুষ্ঠানে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। দলটির ইশতেহারে আরও বেশকিছু উদ্যোগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো—
নারী নিরাপত্তা ও নারীবান্ধব বাস চালুকরণ
নারীদের সার্বক্ষণিক নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রাথমিকভাবে ঢাকার বিভিন্ন রুটে ‘শুধু নারী যাত্রী’ বাস (পিংক বাস) চালু করা হবে। পরীক্ষামূলকভাবে সেখানে ড্রাইভার ও সহকারী হিসেবেও নারীরা থাকবেন।
ইশতেহারে বলা হয়, ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্য দমন এবং জাল দলিলের মাধ্যমে ভূমি ক্রয়-বিক্রয় বহুলাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
‘ভূমিসেবা মেলা’ আয়োজন
আয়কর মেলার মতো প্রতিবছর প্রতি উপজেলায় একবার মাসব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা’ আয়োজন করা হবে। সাধারণ মানুষ এক জায়গায় এসে তাদের জমি-জমা সংক্রান্ত সব ধরনের সেবা (নামজারি, রেজিস্ট্রেশন, খাজনা পরিশোধ, রেকর্ড সংশোধন ইত্যাদি) সহজে, স্বচ্ছভাবে ও দ্রুত সম্পন্ন করতে পারবে। এর ফলে জনগণের ভূমি সংক্রান্ত সেবায় দুর্নীতি ও ভোগান্তি হ্রাস পাবে।
স্থানীয় সরকারকে ক্ষমতায়ন
স্থানীয় সরকারকে নগর ব্যবস্থাপনার প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে সক্ষম করা হবে। নগর পরিকল্পনা, ভূমি ব্যবহার ও সেবা প্রদানে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাকে ক্ষমতায়ন করা হবে। দুর্নীতি ও জটিলতা কমাতে একীভূত ডিজিটাল ভূমি ও পরিকল্পনা পোর্টাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সিটিজেনস সার্ভিস কর্নার স্থাপন
পর্যান্ত পাবলিক টয়লেট স্থাপনসহ প্রবীণ নাগরিকদের বিশ্রাম সুবিধা প্রদান, সাশ্রয়ী মূল্যে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি মহানগরী ও জেলা শহরে ‘সিটিজেনস সার্ভিস কর্নার’ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে, যা পর্যায়ক্রমে উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধিকল্পে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত ‘সাইড ওয়াক বেঞ্চ’ স্থাপন করা হবে।
আধুনিক ও নিরাপদ নগর
ডিজিটাল প্রযুক্তি, স্থায়ী পরিকল্পনা আর নাগরিক অংশগ্রহণ নিয়ে আধুনিক ও নিরাপদ শহর গড়ে তোলা হবে। টেকসই পরিবহণ, ডিজিটাল পরিষেবা, সেন্সর-ভিত্তিক ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট, বরুন ও পানি ব্যবস্থাপনা সবই হবে নিরাপদ আর সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য। পাশাপাশি, নাগরিকরা সহজভাবে অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে সরকারি সেবা পাবে, প্রয়োজনীয় তথ্য জানবে এবং শহরের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে পারবে। ফলে, জীবনযাত্রা উন্নত হবে, জলবায়ু ঝুঁকি কমবে এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) চালুকরণ
ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ভালো করার লক্ষ্যে ঢাকা শহরে পরীক্ষামূলকভাবে ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল চালু করা হবে।
আইটিএস ও সিসিটিভি নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি
ঢাকার প্রধান সড়কে ‘ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (আইটিএস)’ এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে যানজট কমানো এবং শহরের সব প্রান্তে পর্যাপ্ত সিসিটিভির মাধ্যমে জননিরাপত্তা বাড়ানো হবে। যানবাহনে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও ট্রলিং চালু করে শহর ও মহাসড়কের যানজট কমানো হবে।
শেয়ারড পার্কিং
ঢাকা শহরে পার্কিং সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং শেয়ারড পার্কিং উৎসাহিত করা হবে।
রিকশা চলাচলে বাস্তবধর্মী পরিকল্পনা গ্রহণ
রিকশা চলাচলে সমন্বয়ভিত্তিক বাস্তবধর্মী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। রিকশাচালকদের ফ্রি ট্রেইনিং করানো হবে এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স প্রদান করা হবে।
বৃত্তাকার নৌ-পথ ও রিং রোড নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ
ঢাকার ওপর আন্তজেলা ট্রাফিকের চাপ কমাতে রিং রোড নেটওয়ার্ক, তার সঙ্গে সংযুক্ত রেডিয়াল রোড দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষ গঠন
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয় করার জন্যে একটি স্বাধীন মেট্রোপলিটন পরিবহণ কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
ভাসমান ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন
ভাসমান ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী (রাস্তার পাশে, স্টেশন, নৌঘাট বা ফুটপাতে বসবাসকারী, জলবায়ু), লিঙ্গ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, মাদকাসক্ত ও পুনর্বাসনবঞ্চিত মানুষদের জীবনমান উন্নয়নে ও নিরাপদ পুনর্বাসনের লক্ষ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
নগর দারিদ্র্য বিমোচন
নগর দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে শহর ও নগরের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য জনসংখ্যা ও চাহিদা অনুযায়ী সামাজিক সুরক্ষা সেবার আওতা সম্প্রাসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
বস্তিবাসীর আবাসন সংকট নিরসন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন
কড়াইল বস্তির বাসিন্দাদের আবাসন সংকট নিরসনের লক্ষ্যে সেখানে ছোট ছোট ফ্ল্যাট নির্মাণ করে তাদের প্রত্যেকের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য বস্তি ছাড়ার আগেই প্রত্যেক বস্তিবাসী পরিবারকে ফ্ল্যাটের অগ্রিম বরাদ্দপত্র দেওয়া হবে। পাশাপাশি সেখানে বসবাসরতদের সন্তানদের শিক্ষা ও সবার স্বাস্থ্যের উন্নয়নেও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
পর্যটন শিল্প
প্রচুর সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এখনও বিশ্বে একটি পর্যটক-প্রিয় দেশ হয়ে উঠতে পারেনি। পর্যটন শিল্পকে জনপ্রিয়করণ, এর প্রসার ও বিকাশ এবং বাংলাদেশকে পর্যটন-বান্ধব দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতীয় পর্যটন নীতিমালা হালনাগাদ করা হবে। বাংলাদেশে পর্যটকদের প্রবেশ-পথগুলোকে এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে অধিকতর পরিচ্ছন্ন, ঝামেলামুক্ত, সেবামুখী এবং আকর্ষণীয় প্রবেশ-পথ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও পর্যটন-বান্ধব নীতি প্রণয়ন
দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর আবাসন, নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করা হবে। বিদেশি পর্যটকদের সুবিধার্থে ভিসা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা সহজীকরণ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দোভাষী ও পর্যটক-বিদেশি ভাষায় দক্ষ গাইড সেবা নিশ্চিত করা হবে। বিদেশি পর্যটকদের সুবিধার্থে একটি একক অনলাইন পোর্টাল ও মোবাইল অ্যাপ চালু করা হবে, যেখানে থাকবে হোটেল বুকিং, ভিসা সহায়তা, গাইড সার্ভিস, ভাষান্তর ও নিরাপত্তা তথ্য। এ ছাড়া পর্যটন খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে এআই-ভিত্তিক ভ্রমণ পরামর্শ ও ভার্চুয়াল রিয়ালিটি ট্যুর।

নিজস্ব প্রতিবেদক