জীবন দিতে রাজি, তবে কোনো মায়ের ইজ্জত নয় : জামায়াত আমির
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জীবন দিতে রাজি আছি, কিন্তু কোনো মায়ের ইজ্জত দিতে রাজি নই। তিনি বলেন, কেউ কেউ ষড়যন্ত্র শুরু করেছিল, কিন্তু তা তাদের নিজেদের দিকেই পাল্টা গিয়েছে। আমি যেটা বলিনি, সেটা নিয়ে তারা মিথ্যাচার করছে। আমরা দেশে মায়ের-মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।
আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাতারহাট আর সি কলেজ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না। আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। আমরা বিজয়ী হলে দেশের সব মানুষ বিজয়ী হবে। আমরা চাই, সবাইকে নিয়ে সুন্দর একটা দেশ গঠন করতে, যেখানে সবার সমান অধিকার থাকবে। বিচার ব্যবস্থাও সবার জন্য সমান হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বিজয়ী হলে দেশে আর কোনো বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটবে না। ৫ আগস্টের আগে দেশে অহরহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দেশের কোনো মানুষ বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হবে না। দেশে অনেক নিরীহ মানুষ হত্যা করা হয়েছে। এর আগে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আর ঘটতে দেওয়া যাবে না।
জামায়াত আমির বলেন, দেশের উন্নয়ন যেখানে থেমে গেছে, আমরা সেখান থেকে শুরু করব। দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। ক্ষমতায় গেলে যারা এসব টাকা পাচার করেছে তাদের পেটের মধ্য থেকে পাচার করা টাকা বের করে আনা হবে। আমরা কোনো দল, কোনো পরিবারের বিজয় দেখতে চাই না।
জামায়াতের এ নেতা বলেন, আমরা দুর্নীতির ডাল আর পাতা ধরে টান দেবে না, আমরা ঘাড় ধরে টান দেব। আমরা চাঁদাবাজি করতে দেব না, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২৮ লাখ কোটি টাকা লুটপাটকে পাচার করেছে। সেই টাকা আনতে হলে যারা কোনো লুটপাটের সঙ্গে নেই, তাদের ক্ষমতায় আনতে হবে। যারা লুটপাটের সঙ্গে জড়িত তারা এই টাকা আনতে পারবে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা ক্ষমতায় এলে বিচার হবে সবার জন্য সমান, সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যে বিচার, রাষ্ট্রপতি অপরাধ করলেও একই বিচার হবে। সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করতে জামায়াতে ইসলামী।
জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, আমাদের কোনো অফিসে যেতে পারেনি। আমাদের সংগঠন নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে, নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। একটিমাত্র দল, যাদের হাজার কর্মীকে আটক করা হয়েছে। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তারপরও তারা জনগণের জন্য কাজ করে গেছে।
জামায়াত আমির বলেন, আমাদের হাতে অঢেল সম্পদ ছিল না, কিন্তু ঝড় জলোচ্ছ্বাসে পাশে থেকেছি। ৫ তারিখের পর আমরা যখন সুযোগ পেয়েছি, তখন আমরা বলেছি কারো বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধ নেইনি। কোনো মামলা করিনি। আমরা মানুষের সম্পদের পাহারাদার হিসেবে কাজ করেছি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১২ তারিখ প্রথম ভোট হবে গণভোট, হ্যাঁ ভোট। পরের ভোট হবে দাঁড়িপাল্লায়, একটিবার সুযোগ দেন, কোনো ধর্ম-বর্ণের বৈষম্য থাকবে না। যার যার যোগ্যতা অনুযায়ী দেশটা গড়ব। এ বাংলাদেশ থাকবে, তবে এর চরিত্র বদলে যাবে, এটা হবে গণমানুষের বাংলাদেশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক