‘সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র’ বিনির্মাণের প্রত্যাশা ডা. জুবাইদা রহমানের
ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল-ভাষানটেক-সাততলা এলাকার নানা সমস্যার কথা শুনেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এ সময় তিনি ‘সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র’ বিনির্মাণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হাতিঝিলে এক অনুষ্ঠানে এই তিন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ডা. জুবাইদা রহমান।
জুবাইদা রহমান বলেন, আপনারা আপনাদের মূল্যবান সময় নিয়ে এখানে এসেছেন, আমাদের কথা শুনেছেন এবং আপনাদের সমস্যাগুলো আমাদেরকে বলেছেন। আমরা আমাদের সাধ্যমতো আপনাদের সমস্যাগুলো আরও শুনব, আরও জানব। আমরা একে অপরকে আরও জানতে চেষ্টা করব—সমস্যাগুলো কীভাবে সুষ্ঠুভাবে সমাধান করে একটি সুন্দর সমতাভিত্তিক, জ্ঞানভিত্তিক, শ্রমভিত্তিক রাষ্ট্র উপহার দেওয়া যায়।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, আমাদের রাজনীতি সুষ্ঠু পরিকল্পনার রাজনীতি। এখন আমাদের গৌরবের নতুন সূর্যোদয়। আমরা বলি, আমার আগে ‘আমরা’, আমাদের আগে ‘দেশ’, ক্ষমতার আগে ‘জনতা’, সবার আগে ‘বাংলাদেশ’, ভেদাভেদের আগে ‘সমতা’, সবার জন্য ‘সমান সুযোগ-শ্রমের মর্যাদা’। আমরা সবাইকে দিতে চাই—শ্রমের মর্যাদা, মেধার মূল্যায়ন, মেধাভিত্তিক চাকরি, অধিকার ও সুবিচার।
এই অনুষ্ঠানে সব পেশার মানুষজন একসঙ্গে আসায় তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে জুবাইদা রহমান বলেন, এতক্ষণ আমরা শুনলাম ভাষানটেক, কড়াইল, সাততলা থেকে আগত তিনজন বোনের হৃদয় বিদারক অনেক সমস্যার কথা, শুনলাম দুজন পোশাক কর্মী ভাই ও বোনের সমস্যার কথা এবং একজন পরিবহণ কর্মী ভাইয়ের কথা। আপনাদের সমস্যা অনেক। আমি-আপনি-আমাদের সবার সমস্যা অনেক। সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে এই সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।
ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচন পরিচালনা পেশাজীবী কমিটির উদ্যোগে এই মতবিনিময় সভা হয়। এতে কড়াইল, ভাষানটেক ও সাততলার কর্মজীবী রিকশাচালক, বাসচালক, পোশাক কর্মী, চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, বাংকার্স, সিষ্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন পেশার মানুষজন অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, পরিচালনক সৈয়দা তাজনীন ওয়ারিস সিমকী, ভাষানটেকের বাসিন্দা গৃহিণী তানিয়া আখতার, কড়াইল আদর্শ নগরের তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী ফাতেমা আখতার, সাততলার এলাকার সাউথ ইস্ট ইউনির্ভাসিটির শিক্ষার্থী নার্গিস আখতার এবং পোশাক কর্মী মির্জা আল শামীম, ফাতেমা খাতুন ও পরিবহণ শ্রমিক রুহুল আমিন বাবু বক্তব্য দেন।
বক্তারা নিজ নিজ এলাকার সমস্যা বিশেষ করে রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, পয়োঃনিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা, খেলার মাঠ নির্মাণ, হাসপাতাল স্থাপন, শিল্প প্রতিষ্ঠানে ডে-কেয়ার সেন্টার তৈরি, শিল্পে নারী কর্মীদের ওপর নিপীড়ন নির্যাতন বন্ধ করা, যানজট নিরসন, বস্তিবাসীদের স্থায়ী পুনবার্সন, গণপরিবহণের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তিতে চলমান দুর্নীতি দূরীকরণ, এই এলাকায় রাস্তাঘাটের লাইটিং ব্যবস্থা উন্নত করাসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)