বাংলাদেশে জবাবদিহিমূলক সরকার গঠন হতে যাচ্ছে : আলী রীয়াজ
দেশের বিচার ব্যবস্থা স্বচ্ছ, ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলুপ্ত এবং ভবিষ্যতে নিরপেক্ষভাবে জাতীয় নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান আলী রীয়াজ।
আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার–বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন আলী রীয়াজ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলী রীয়াজ বলেন, বাংলাদেশে একটি জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সরকার গঠন হতে যাচ্ছে— তাই সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দীর্ঘ নয় মাস আলোচনা করার পরও গণভোট প্রয়োজন কেন? কারণ সবাই রাজনৈতিক দল না, এর বাইরে অনেক মানুষ রয়েছে। এই সুযোগ এত হেলায় কাটানো যাবে না, অনেক সংগ্রামের পর আমরা এই জায়গায় এসেছি। এবার সুযোগ এসেছে বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক জবাবদিহিমূলক দেশ গড়ে তোলার।
আলী রীয়াজ আরও বলেন, বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। এর জন্য তিনি সরাসরি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দায়ী করেন। তাঁর দাবি, নির্বাচন ব্যবস্থাকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে।
আলী রীয়াজ অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মীদের দিয়ে গঠন করা হতো। একইভাবে পিএসসিও দলীয় প্রভাবমুক্ত ছিল না। ছাত্রলীগের কর্মীদের উদ্দেশে বলা হতো—‘তোমরা শুধু পরীক্ষায় বসো, চাকরির ব্যবস্থা আমরা করে দেব।’ এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, “গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার লক্ষ্যেই আমি ভোটকেন্দ্রে যাব। হাজারো তরুণের রক্তের বিনিময়ে গড়ে ওঠা নতুন বাংলাদেশের পথকে এগিয়ে নিতে এই ‘হ্যাঁ’ ভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক দায়িত্ব ও নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রতীক।”
উপাচার্য আরও বলেন, ‘গণভোটের কোনো নির্দিষ্ট প্রতীক না থাকলেও তাঁর নিজের ভেতরে একটি প্রতীক রয়েছে। আমার মনের গভীরে একটি মার্কা আছে, সেটি লাল। এই লাল হলো আমাদের সন্তানদের রক্তের চিহ্ন।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন আহত জুলাইযোদ্ধা, তাঁদের পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক ও উপাচার্যরা। সভায় ইউজিসির সদস্য আনোয়ার হোসেনসহ উত্তরবঙ্গের প্রায় ২০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ডিন এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আবু ছালেহ শোয়েব, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়