ফেনীতে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় টমটম চালক নিহত
ফেনীতে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় এক টমটম চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ফেনী শহরের নাজিররোড এলাকার টিপটপ মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত কিশোরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহত টমটম চালক মো. মাসুদ হাসান মাহিদ (১৯)। তিনি কুমিল্লার তিতাস থানার জয়পুর গ্রামের মো. নয়নের বড় ছেলে। পরিবারসহ দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে তিনি ফেনী শহরে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন।
নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মাসুদ তার বাবা মো. নয়নের সঙ্গে বরফকলে কাজ করতেন এবং পাশাপাশি টমটম চালাতেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় টমটম নিয়ে বের হলে কয়েকজন কিশোর তাকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মাসুদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় মাসুদ ও তার সঙ্গে থাকা ইরফানকে (১৫) ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসুদকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ইরফানকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহতের বাবা মো. নয়ন বলেন, ‘আমার ছেলে আমার সঙ্গে বরফকলে কাজ করতো। কয়েকদিন ধরে অসুস্থ থাকায় কাজে যায়নি। শুক্রবার টমটম নিয়ে বের হয়। পরে খবর পাই তাকে মেরে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এসে দেখি আমার ছেলে আর বেঁচে নেই। আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।’
নিহতের ছোট ভাই অভিযোগ করে বলেন, ইয়াফি, রাহাত, শান্ত, মারুফ ও নিলয় আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে। এর আগেও তারা একবার আমার ভাইয়ের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিল। আমি সবাইকে চিনি। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানাই।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রুহুল মোহছেন সুজন বলেন, মাসুদকে হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান তিনি। তার বাম কাঁধ ও বুকে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত ছিল। আহত অপরজনের বাম কান ও মুখে গভীর ক্ষত রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে রাহাত নামের এক কিশোরকে আটক করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানালেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, এ ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। উক্ত ঘটনার তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

জাহিদুল রাজন, ফেনী জেলা (সদর-ছাগলনাইয়া)