নির্বাচন শান্তিপূর্ণ রাখতে নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান মির্জা আব্বাসের
ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস নির্বাচনের সময় নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, উসকানিমূলক পরিস্থিতিতে শান্ত থাকবেন। বিজয় আমাদের প্রান্তে, ইনশাআল্লাহ। কয়েক দিন ধৈর্য ধরুন এবং কোনো চক্রান্তের ফাঁদে পা দেবেন না।
আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর ব্রাদার্স ক্লাব মাঠে ধানের শীষের পক্ষে গণমিছিলপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস। গণমিছিলটি ব্রাদার্স ক্লাব মাঠের সামনে থেকে শুরু হয়ে ঢাকা-৮ আসনের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।
মির্জা আব্বাস বলেন, নির্বাচন আদায়ের জন্য বাংলাদেশের জনগণ গত ১৭ বছর লড়াই করেছে। বিএনপির বহু নেতাকর্মী আত্মাহুতি দিয়েছে, সিনিয়র নেতারাও শাহাদাত বরণ করেছেন। দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ভুক্তভোগী হয়েছে। গণতান্ত্রিক অধিকার ছিল না। এটি আমরা আন্দোলন করে অর্জন করেছি। অনেকেই বলেন, সাত দিন আন্দোলন করে শেখ হাসিনাকে পরাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু ভুলবেন না, এই ১৭ বছরে দেশের জনগণ যে ত্যাগ করেছেন, যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার বিনিময়ে আজকের গণতন্ত্রের অধিকার আমরা অর্জন করেছি।
দেশের মানুষের জন্য খালেদা জিয়ার সংগ্রামের কথা তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, আপনাদের স্মরণ রাখতে হবে, খালেদা জিয়া সংগ্রাম করেছেন এবং জীবন দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের জন্য লড়াই করেছেন। সেই কথা স্মরণ করে আমাদের আগামী দিনের পথ চলতে হবে। আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে হবে এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
মির্জা আব্বাস সতর্ক করে বলেন, নির্বাচন বানচাল করার জন্য কিছু চক্রান্ত চলছে। নির্বাচন থেকে জনগণকে অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিএনপি বহু নির্বাচনে অংশ নিয়েও কোনো প্রতিপক্ষের ওপর হামলা ঘটায়নি। আমরা সবসময় উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন করেছি। আজও আমাদের নেতাকর্মীরা অত্যন্ত শান্ত ও নীরব ভূমিকা পালন করছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, যে দলটির কোনো নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নেই, যারা জীবনে দেশের জনগণের জন্য কাজ করেনি, তারা বিএনপিকে অপদস্ত করার চেষ্টা করছে। তাদের কাছে নিজেদের বলার কিছু নেই। তারা শুধু বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলাই তাদের কাজ মনে করে। তাদের উদ্দেশ্য হলো—দেশের জনগণকে চিরতরে উপেক্ষিত রাখা। তবে দেশের স্বার্থ রক্ষাকারী একমাত্র দল হলো বিএনপি।
মির্জা আব্বাস নেতাকর্মীদের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, কোনো উসকানিমূলক কথাবার্তা বা কাজে জড়াবেন না। বিজয় আমাদের হবে, ইনশাআল্লাহ। কয়েক দিন ধৈর্য ধরুন। নির্বাচনের পরে দেশের শান্তি বজায় রাখতে আমাদের এবং জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপি দেশের শান্তি বজায় রাখতে চায়। আমাদের লক্ষ্য দেশের মানুষকে শান্তি ও হাসি ফিরিয়ে দেওয়া।
মির্জা আব্বাস আরও বলেন, বিএনপি কোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে ঝগড়া বা ফ্যাসাদ করতে চায় না। আমরা দেশের মানুষকে শান্তি দিতে চাই। যারা চক্রান্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আমরা রুখে দাঁড়াতে পারি। তবে, এখন প্রমাণ দেখানোর সময় নয়। নির্বাচনের পরে দেশকে শান্ত রাখতে আমরা সব চেষ্টা করব।
শেখ সাদীর কবিতার লাইন ‘বে-আদব বে-নসিব, বা-আদব বা-নসিব’ স্মরণ করিয়ে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, আজকের প্রজন্মকেও শ্রদ্ধা ও আদব শিখতে হবে। আমি আমার সন্তানতুল্য যারা আজ আমার সম্পর্কে কথা বলে, তাদের উদ্দেশে এই উপদেশমূলক কবিতার লাইন পাঠালাম।
মির্জা আব্বাস বলেন, ছোটবেলায় আমি সব দলকে সম্মান করেছি। আজও চাই, নেতাকর্মীরা শান্তি বজায় রাখুক। বিএনপির কর্মীরা সুশৃঙ্খল। তারা চক্রান্তবাদী নয়। দেশের মানুষকে শান্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য দিতে হলে আমাদের সতর্ক থাকা দরকার।

নিজস্ব প্রতিবেদক