সব দলের সহযোগিতা পাচ্ছি, স্বাধীনভাবে কাজ করছি : ইসি মাছউদ
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর পূর্ণ সহযোগিতা পাওয়ায় নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হবে।
আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি মাছউদ এসব কথা বলেন।
সরকারের কাছ থেকে অসহযোগিতা বা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে চাপের মুখে পড়তে হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, কমিশন কোনো মহল থেকেই কোনো ধরনের চাপের সম্মুখীন হইনি। আমরা কোনো ধরনের চাপ পাইনি। সংবিধান প্রদত্ত দায়িত্ব পালনে আমরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছি। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, অনেক বড় দলের চেয়ারম্যান, অনেকদিন পরে বিদেশ থেকে এসছেন, উনি উনার বাড়িতে যাবেন এটা তার মৌলিক অধিকার, আমরা এটি বাধা দিতে পারি না, উনি কবর জিয়ারত করতে যাবেন, আমরা থামাতে পারি না। কিন্তু তারপরেও নির্বাচনের সমতা রক্ষার জন্য কমিশন থেকে অনুরোধ করা হয়েছে, আপনার এই প্রোগ্রামটা ২১ তারিখের পরে করেন। আমরা অত্যন্ত খুশি এটা আমাদের জন্য একটা ভালো বার্তা, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটা পরিবর্তন আসছে, উনারা সঙ্গে সঙ্গে মেনে নিয়েছেন। আমরা মনে করি, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ভোটের সংস্কৃতিতে একটা পরিবর্তন এসেছে। একইভাবে দেখবেন আমরা তফসিলের আগে পরে যত পোস্টার আছে সব সরিয়ে ফেলতে বলেছি। জামায়াত পোস্টারগুলো সরিয়েও ফেলেছে। এই দুটোই আমাদের জন্য ভালো দিক। দুই দলকে আমাদের নির্বাচন পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানাই।
ইসি মাছউদ বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনি পরিবেশ বেশ ভালো রয়েছে। আমরা খুবই আশাবাদী। এখন পর্যন্ত যে পরিবেশ আমরা লক্ষ্য করেছি, তাতে পরিস্থিতি বেশ ভালো বলেই মনে হচ্ছে।
এই নির্বাচন কমিশনার ভোটারদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমি ভোটারদের অনুরোধ করব-তারা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন ও নাগরিক দায়িত্ব পালন করেন।
আরেক প্রশ্নের উত্তরে ইসি মাছউদ বলেন, কোনো অযোগ্য প্রার্থী যদি কোনোভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিতও হয়ে যান, তবুও নির্বাচন কমিশনের পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হয়ে যান, তাহলেও আমাদের তার বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, নির্বাচন পরবর্তী সময়েও যদি নির্বাচন কমিশন দেখতে পায় যে কোনো প্রার্থী তার হলফনামা কিংবা আয়-ব্যয়ের হিসাবপত্রে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন, তাহলে কমিশনের সেই প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতা থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক