ঢামেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগে নাজমা বেগম নামে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধরের করায় হামলাকারীদের বিচারের আশ্বাস পাওয়ার পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন চিকিৎসকেরা। এর ফলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাসেবা পুনরায় চালু হয়েছে।
গতকাল বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিনগত রাত দেড়টার দিকে রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেন।
এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ডা. জাকারিয়া আল আসফি বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নাজমা নামে এক নারী রোগী মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে ওই রোগীর মৃত্যু হয়। এরপর রোগীর স্বজনরা চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালান।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৫ম বর্ষের শিক্ষার্থী আলফাজ হোসেইন শিহাব বলেন, ‘রোগী মৃত্যুর পর বারবার এমন হামলার ঘটনা আমাদের জন্য আতঙ্কের। নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হলে সঠিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।’
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করে। পরে তাদের শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোষীদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হবে। এ আশ্বাসের পরই চিকিৎসকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে চিকিৎসাসেবা পুনরায় শুরু করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রোগীর মৃত্যুর পর ইন্টার্ন চিকিৎসককে হেনেস্তার ঘটনায় সাময়িকভাবে চিকিৎসাসেবা বন্ধ ছিল। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আশ্বাস দেওয়ায় চিকিৎসা কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক হয়েছে।

খান ইফতেখার, ঢাকা মেডিকেল কলেজ