ফ্যামিলি-কৃষি কার্ড জনগণ পর্যন্ত পৌঁছাবে তো : নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এসসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা শুনছি বিভিন্ন কার্ড দেওয়া হবে, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। আমরা চাই কার্ড দেওয়া হোক, জনগণ সুবিধা পাক। কিন্তু কার্ড জনগণ পর্যন্ত পৌঁছাবে তো? দুই হাজার টাকার কার্ড নিতে এক হাজার টাকার ঘুষ দেওয়া লাগবে না তো। তাহলে ঘুষ-চাঁদাবাজি সেটা যদি আমরা নির্মূল করতে না পারি এসব সুযোগ-সুবিধা কি জনগণের কাছ পর্যন্ত পৌঁছাবে?
আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনি জনসভায় নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া ছাড়া এর কোনো বিকল্প নেই, অন্য কোনো প্ল্যান কাজে দিবে না। নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ আচরণ করতে হবে। উভয় দলের জন্য, উভয় জোটের জন্য একই রকম আচারণবিধি থাকতে হবে। কোনো ধরনের বৈষম্য মেনে নেওয়া হবে না।
নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, নির্বাচন কমিশনকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আমরা এখনও মুখে বলছি, আমরা এখনও মাঠে নামি নাই। আমরা মাঠে নামবো নির্বাচনের জন্য, আমাদেরকে আন্দোলনে নামতে বাধ্য করবেন না।
নাহিদ বলেন, আমরা মনে করি আমাদের জাতীয় লড়াই শেষ হয়ে যায়নি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলমান। আধিপত্যবাদী শক্তি, ফ্যাসিবাদী শক্তি এখনো দিল্লিতে বসে নানা ষড়যন্ত্র করছে। ফলে আমাদের জাতীয় লড়াই আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং দেশের ভেতরে আমাদের এই লড়াই চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই। এই উভয় লড়াই আমাদের একসাথে চালিয়ে যেতে হবে।
নাহিদ আরও বলেন, একদিকে বলা হচ্ছে কার্ড দিবে, আরেক দিকে ঋণখেলাপিদেরকে সংসদে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ব্যবহার করা হচ্ছে, আদালতকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ কেমন দ্বিচারিতা। যদি প্রকৃতপক্ষে জনগণকে সুবিদা দেওয়ার নিয়ত থাকে, তাহলে কেউ ঋণখেলাপিকে নমিনেশন দিতে পারে না।
নাহিদ ইসলাম বলেন, যারা ঋণ পরিশোধ করেনি, আপনাদের কি মনে হয় তারা সংসদে গেলে ঋণ পরিশোধ করবে। এরা আবার ঋণ নিবে, আবারও টাকা লুট করবে, আবারও টাকা পাচার করবে বিদেশে। আমরা তো এই বাংলাদেশ চাই নাই। আমরা তো লুটেরাদের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান করেছি। ফলে নতুন কোনো লুটেরাকে আমরা ক্ষমতায় যেতে দিবো না। বাংলাদেশের জনগণ তাদেরকে ক্ষমতায় যেতে দিবে না।
নাহিদ বলেন, বলা হচ্ছে বস্তিবাসিকে ফ্ল্যাট দেওয়া হবে। বস্তিবাসি ফ্ল্যাট চায়নি আমাদের কাছে আপনাদের কাছে। বস্তিবাসি চায় নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা, বস্তিবাসি চায় মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান। বস্তিবাসিকে ঢাকা শহরে আজ পর্যন্ত যারা ফ্ল্যাট দিবে অঙ্গীকার করেছে, তারা বস্তি উচ্ছেদের পরিকল্পনা করেছে। তারা বস্তিতে আগুন লাগিয়েছে। বলা হয়েছে আপনাদেরকে ফ্ল্যাট দিব আপনারা বস্তি থেকে উচ্ছেদ হন। আল্লাহ না করুক হয়তো এই ধরনের প্লান নাই।

নিজস্ব প্রতিবেদক