পাল্টাপাল্টি মামলায় বিএনপি-জামায়াতের নেতাসহ গ্রেপ্তার ১২
বরগুনার পাথরঘাটায় নির্বাচনি আচরণবিধি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার বিরোধ ও সংঘর্ষের জেরে পাল্টাপাল্টি মামলায় ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে আজ শনিবার দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন- পাথরঘাটা পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা বজলুর রহমান (৫০), রায়হানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কালাম ওরফে গদি কালাম (৫৫) ও চরদুয়ানী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ওমর সানি (৩০)। এছাড়া আটক অন্য ৯ জনের মধ্যে রয়েছেন- হৃদয় মোল্লা, ইমরান, এমদাদুল হক, মো. মুন্না, মো. নাসির চৌধুরী, মো. আব্দুর রহমান, তোহা ইব্রাহিম, মো. মোস্তফা হাং ও মো. নাসির শেখ।
জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ১২ জানুয়ারি পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াত নেতা নাসির উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠে, নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি কর্মী নুর আলম তার ওপর হামলা করে। এর পরদিন ১৩ জানুয়ারি চরদুয়ানী ইউনিয়নের খলিফারহাট চৌরাস্তায় দুই পক্ষের মধ্যে পুনরায় তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ৬ জন আহত হন। এই দুই ঘটনায় দুই পক্ষই থানায় মামলা দায়ের করে।
বরগুনা-২ আসনের জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক শামীম হাসান বলেন, বিএনপির যাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে তারা নির্বিঘ্নে চলাফেরা ও নির্বাচনি কার্যক্রম চালাচ্ছে। অথচ পুলিশ তাদের না ধরে জামায়াতের নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে। দুই দলকে ব্যালেন্স করার নামে জামায়াতের নেতাকর্মীদের আটক করা হচ্ছে।
অপরদিকে, পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ ফারুক বলেন, রাতের অভিযানে আটককৃতদের বেশিরভাগই সাধারণ মানুষ। এমন গণআটকের ফলে ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সন্দেহভাজন হিসেবে আমার দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে, তাদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা বলেন, নির্বাচনের আগে পাথরঘাটার পরিবেশ শান্ত রাখতে ডিআইজির করা নির্দেশ রয়েছে। এজন্য পাথরঘাটায় অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি নৌবাহিনীসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতের ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বাড়বে।

মাহমুদুর রহমান, বরগুনা (পাথরঘাটা-তালতলী)