‘ইসি একতরফা করলে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হব’
‘নির্বাচন কমিশন (ইসি) একতরফা করলে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হব’—বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
ইসিকে উদ্দেশ্য করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আসুন আমরা সবাই মিলে একটা সুন্দর নির্বাচন করি। সুন্দর নির্বাচনে যেরকম পরিবেশ নিশ্চিত করা দরকার আপনারা উদ্যোগী হন পদক্ষেপ নেন। রাজনৈতিক দল হিসেবে সহযোগী শক্তি হিসেবে আমরা আপনাদের পাশে আছি। যদি আইনের ব্যর্থতায় একতরফাও যদি সব করতে চান সেক্ষেত্রে কিন্তু আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হব। আমরা একটা রাজনৈতিক শক্তি।
হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন,ইসিকে সবচেয়ে বেশি দায়বার নিতে হবে। যেহেতু তফসিল ঘোষণার পর সম্পূর্ণ পাওয়ার ফাংশন তাদের হাতে চলে আসছে। একটা ভাইটাল রোল ইলেকশন কেন্দ্রিক আছে। এই জায়গায় দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
জামায়াতের লোকজন পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও ভাইরাল করার অভিযোগ প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এই অভিযোগটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বাহারাইন এমন একটা দেশ যে দেশে কোনো রাজনৈতিক দলের শাখা তাদের দেশের আইনে সাপোর্ট করে না। বাংলাদেশের নির্বাচনি আইন অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের যে শর্তাবলী আছে বিদেশের রাজনৈতিক দলের কোনো শাখা থাকতে পারবে না। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হিসেবে আমরা অলওয়েজ এটা মেনটেইন করেছি। যদিও মিডিয়াতে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন দলের শাখা আমরা দেখি। এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেই। যেখানে আমার দলের কমিটি নেই, রাজনৈতিক নেতা হওয়ার তো প্রশ্নই উঠে না।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, বাংলাদেশে তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনি প্রচারণা ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা। অথচ কিছু দল প্রচারণা শুরু করেছে। আবার আমাদের দলের প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারণা করছেন না। স্বপ্রণোদিত হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনি কর্মকর্তাগণ আমাদের হয়রানি করছেন। এই অভিযোগটা আছে। আমরা অভিযোগ দায়ের করেছি। কাগজের স্তুপ পড়ে আছে। অথচ কোনো অ্যাকশন নেই। তাইলে এখানে নির্বাচনি সমতা রক্ষা করা হচ্ছে না। একদিকে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে তারা। অথচ ইসির কোনো অ্যাকশন নেই। আর যারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন না হয়রানি করার জন্য আবার তাদেরকে জরিমানা নোটিশ নানা কার্যক্রম চালানো হয়েছে। কমিশনকে আমরা এটা বলেছি এটা বন্ধ করতে হবে।
জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, আরেকটা বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের ১০ টাকার চালের কথা মনে আছে। কয় টাকার খাইছেন? আপনারা মনে হয় পাইছেন আমরা কিন্তু পাইনি। জনগণও পায়নি। ঘরে ঘরে চাকরিও আমরা পাইনি। এজন্য আমাদের ছাত্ররা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করে সরকার পতন করেছে। যেহেতু তারা চাকরি পায়নি ঘরে ঘরে, এমনকি ন্যায্যতাটাও পায়নি, মেধাভিত্তিকও পায়নি। সে ধরনের প্রতারণা বিগতদিনে হয়েছে। এখন একই স্টাইলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, নানা কার্ডের বাহানা দিয়ে ডেমো কার্ড বানিয়ে ঘরে ঘরে বিলি করা হচ্ছে। এই কার্ড আমরা দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের ভোট দিলে তুমি এই ফ্যাসিলিটিগুলো পাবে। আমরা কমিশনকে গতবার এসে কথাগুলো বলেছি। এটা বন্ধ করেন। ভোটাররা প্রতারিত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক