৮ পাতি সরালি উন্মুক্ত করলেন পাবনার পাখিপ্রেমীরা
পাবনায় একদল পাখিপ্রেমী উন্মুক্ত আকাশে উড়তে ছেড়েছে আট পাতি সরালি পাখি (এক প্রজাতির হাঁস)। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে এক মুরগি বিক্রেতা আটটি পাতি সরালি নিয়ে ঘুরছিলেন শহরে। ইচ্ছে ছিল বেশি দামে বিক্রি করবেন। এর মধ্যেই বিষয়টি নজড়ে পড়ে এহসান আলী বিশ্বাস নামে এক পাখি প্রেমিকের। তিনি দুই হাজার ৫০০ টাকায় পাখিগুলো কিনে অবমুক্ত করেন। ফলে প্রাণ ফিরে পায় তারা।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকে পাখিগুলো অবমুক্ত করা হয়। মুক্ত হয়েই তারা লেকে জলকেলি খেলতে শুরু করে। কয়েকটি আবার উড়ে যায় মুক্ত আকাশে।
স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুর ১টার দিকে দুটি ব্যাগে আটটি পাতি সরালি নিয়ে ঘুরছিলেন শহরের জুগিপাড়ার মাসুম নামের এক মুরগি বিক্রেতা। সোনাপট্টি এলাকায় গেলে বিষয়টি নজরে পড়ে নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিউনিটির সভাপতি এহসান আলী বিশ্বাসের। পাখিগুলো তখন ব্যাগের মধ্যে বন্দি ছিল। তিনি বিষয়টি টের পেয়ে বিক্রেতাকে পাখিগুলো ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু বিক্রেতা বিছুতেই রাজি না হওয়ায় তিনি (এহসান আলী বিশ্বাস) দুই হাজার ৫০০ টাকায় পাখিগুলো কিনে নেন। পরে বিকেল ৩টার দিকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের লেকে অবমুক্ত করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিউনিটির সভাপতি এহসান আলী বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান মাহমুদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ফারুক আহম্মেদসহ সংগঠনের সদস্যরা।
সংগঠনের সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. নাজমুল ইসলাম বলেন, শীতের শুরুতেই পাবনার খাল, বিল ও নদী অঞ্চলে প্রচুর পাখির আনাগোনা বেড়ে যায়। এই সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু পাখি শিকারী প্রতিদিন পাখি শিকার করছে এবং প্রকাশ্যে তা বিক্রি করছে। এটা খুবই দুঃখজনক। এ ব্যপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক আহম্মেদ বলেন, পাখিগুলো বেশ দুর্বল ছিল। বাইরে কোথাও ছাড়লে আবার শিকারীর কবলে পড়তে পারত। তাই আমরা এগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকে ছেড়েছি। পাখিগুলো খোলা পরিবেশ ও লেকের পানি পেয়ে সুস্থ হয়ে উঠছে। এই লেকে এর আগেও আমরা বেশ কয়েক প্রজাতির কচ্ছপ অবমুক্ত করেছি, যেগুলো এখনও সুস্থভাবে বিচরণ করছে।
এ প্রসঙ্গে নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিউনিটির সভাপতি এহসান আলী বিশ্বাস বলেন, প্রতি শীতেই পাখি শিকারীদের দৌড়ত্ব বেড়ে যায়। তারা বিভিন্নভাবে পাখি শিকার করে। আবার এক শ্রেণির মানুষ এই পাখি কিনতে সব সময় উদগ্রিব থাকে। এটা খুবই অন্যায়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমরা পাখি শিকার বন্ধের দাবি জানাই। সেই সঙ্গে প্রশাসনেরর নজরদারি বাড়ানোর এবং সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

এ বি এম ফজলুর রহমান, পাবনা