‘সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সৃষ্টির জন্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে সিপিবি’
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম বলেছেন, সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সৃষ্টির জন্য সিপিবি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে।
শফিকুল ইসলাম বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি -সিপিবির জাতীয় পরিষদ সদস্য ও নওগাঁ জেলা কমিটিতে তৃতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় ‘কাস্তে’ প্রতীকে নির্বাচনে লড়ছেন তিনি।
নওগাঁ সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন সম্পর্কে শফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টি বিভিন্ন সময় ক্ষমতায় থেকেছে। তারা দল আলাদা হলেও সবাই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের তাঁবেদারি ও ধর্মীয় মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সঙ্গে, বিশেষ করে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির সহযোগিতা নিয়েছে এবং তাদের রাজনৈতিক সুবিধা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী একটি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে।
শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, যে প্রার্থী বলবেন, আমাকে ভোট দিলে এলাকায় উন্নয়ন হবে। সে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়া উচিত। কারণ রাস্তা ঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, ঈদগাহ, মসজিদ, মন্দির, স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব স্থানীয় সরকারের, সংসদ সদস্যদের নয়। সারা দেশে থেকে ভোটে নির্বাচিত হওয়া ৩০০ জন সংসদ সদস্যের দায়িত্ব সারা দেশের মানুষকে নিয়ে চিন্তা করা, কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকা নিয়ে নয়।
সিপিবির এই প্রার্থী বলেন, এতদিন ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকারের কাজ সংসদ সদস্যরা নিজ নামে চালিয়ে গেছেন। মূলত সংসদ সদস্যদের কাজ আইন প্রণয়ন, আইনের সংশোধন, সংযোজন ও বিয়োজন ইত্যাদি।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শফিকুল ইসলাম সর্বশেষে বলেন, স্বাধীনতার সুফল গত ৫৪ বছর দেশের মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছেনি। অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া স্বাধীনতার সুফল পাওয়া যাবে না।
স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের কারা নির্যাতিত ও নির্মম পুলিশী নির্যাতনের শিকার ছাত্রনেতা শফিকুল ইসলাম ৮০ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ছাত্র গণসংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৯৮৭ সালে কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ১৯৮৯ সালে তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ অর্জন করেন।
কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার বেশ কয়েক বছর আগেই শফিকুল ইসলাম ছাত্র গণসংগঠনের নেতৃত্বে আসেন। তিনি একাধারে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নওগাঁ উকিল পাড়া আঞ্চলিক কমিটির সাবেক আহ্বায়ক, নওগাঁ সরকারী কলেজ কমিটির সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক, কলেজ কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, নওগাঁ সদর উপজেলা কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, নওগাঁ সদর উপজেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, নওগাঁ জেলা কমিটির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক, নওগাঁ জেলা কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি এবং পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
শফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির নওগাঁ জেলা কমিটির সাবেক সদস্য। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির নিম্নতম বুনিয়াদি সংস্থা শাখার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নওগাঁ সদর উপজেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা কমিটির সাবেক সদস্য, নওগাঁ জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সাবেক সদস্য। বর্তমানে কৃষক গণসংগঠন বাংলাদেশ কৃষক সমিতির নওগাঁ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন।
শফিকুল ইসলাম নওগাঁ কেডি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী।
২০১৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রথমবার নওগাঁ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন শফিকুল ইসলাম। এ পর্যন্ত তৃতীয় মেয়াদে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
শফিকুল ইসলাম একুশে টিভি, বৈশাখী টিভি ও মাছরাঙা টিভির নওগাঁ প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের তিনবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি।

আসাদুর রহমান জয়, নওগাঁ