মাদ্রাসা শিক্ষককে বিদায়ী সংবর্ধনা, ৪ লাখ টাকা উপহার
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুড় শাহ মকসুদ শাহ মনির উদ্দিন (রহ.) হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীকে রাজকীয় বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসার ৬০ বছরপূর্তি উপলক্ষ্যে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী এবং তার অবসর গ্রহণ উপলক্ষে ‘প্রাক্তন-বর্তমান শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দের’ ব্যানারে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ এলাকার নানা পেশাজীবী মানুষ হাজির হয়েছিলেন। মঞ্চ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছাসহ বিদায়ী শিক্ষকের হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা স্মারক।
অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের পক্ষে যুক্তরাজ্য প্রবাসী প্রাক্তন ছাত্র কামরান আহমদ খালিছদার সম্মাননা উপহার হিসেবে মাওলানা মো. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীকে ৪ লাখ টাকা উপহার দেন।
মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীর জন্ম ১৯৬৬ সালে। তিনি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মনসুরপুর গ্রামের মাওলানা মো. ছাখাওয়াত আলী চৌধুরী ওরফে হেকিমের সন্তান। ১৯৮৬ সালে তিনি জকিগঞ্জের বাদে দেওরাইল ফুলতলী সিনিয়র মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক (ফাজিল) ও ১৯৮৭ সালে ওই প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক (কামিল) পদে শিক্ষকতা করেন। ১৯৯১ সালে পহেলা সেপ্টেম্বর বোয়ালজুড় মাদ্রাসার সুপার হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯৫ সালের শেষ দিকে তিনি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার নেরাউদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। পরবর্তী সময়ে ২০০০ সালে পুনরায় বোয়ালজুর মাদ্রাসায় সুপার পদে দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রায় ৩৫ বছর শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনে অবসর নেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দুই অধিবেশনে পুনর্মিলনী ও বিদায়ী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের সভাপতি মিজানুর রহমান খালিছাদার ও মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি কামরুল হুদা জায়গীরদার।
প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জুয়েল আহমদ লতিফি ও মো. মিজানুর রহমানের যৌথ সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদরাসার সাবেক অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা নজমুদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী বলেন, এই মাদ্রাসার সুযোগ্য সুপার মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী আমার ছাত্র। তিনি আমার মাদ্রাসায় শিক্ষকতা জীবন শুরু করেছিলেন। এই এলাকার মাটি ও মানুষের সঙ্গে তিনি জীবনের দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। তার প্রতি আপনাদের এই মায়া-ভালোবাসা দেখে আমি সত্যিই আনন্দিত ও গর্বিত। তিনি বলেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য দেশপ্রেম। আমরা যে কাজই করি না কেন, তা যেন ভালোবাসার সঙ্গে করি। এ জন্য সততা, নিষ্ঠা, মেধা ও মনন থাকতে হবে।
সংবর্ধিত অতিথির বক্তৃতাকালে মাওলানা মো. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী আয়োজক ও এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়ে তার শিক্ষার্থীদের নিয়মিত নামাজ আদায় এবং সৎভাবে জীবন-যাপন করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বলেন, স্মৃতিবিজড়িত এই মাদ্রাসায় কত সোনালি সময় কাটিয়েছি। পুনর্মিলনীতে এসেছি সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা হবে সেই আশায়। এসেই প্রিয় শিক্ষক ও প্রাণের বন্ধুদের সঙ্গে দেখা মিলল। অনুষ্ঠানে এসে কী যে ভালো লাগছে, তা বলে বোঝাতে পারব না। মনে হচ্ছে, সেই দিনগুলোতে ফিরে গেছি। তবে শেষদিকে আমাদের পিতৃতুল্য প্রিয় সুপার হুজুরের বিদায় লগ্নে আমাদের এই আনন্দ বিষাদে রূপ নিয়েছে, আমরা নিজেদেরকে ধরে রাখতে পারছি না।

তারেক আহমদ, সিলেট (বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ)