দিনাজপুরে কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত জনজীবন
হিমালয়ের পাদদেশঘেঁষা জেলা দিনাজপুরে শীতের তীব্রতা চরমে পৌঁছেছে। জানুয়ারির শুরু থেকেই কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরের এই জনপদ। পৌষের শেষ ভাগে এসে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে ঘন কুয়াশা যুক্ত হওয়ায় শীতের অনুভূতি আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোর থেকেই জেলাজুড়ে ঘন কুয়াশার চাদর ও তীব্র শীতের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। কনকনে ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ ও শ্রমজীবী মানুষ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের না হওয়ায় রাস্তাঘাট, হাট-বাজারে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। ফলে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, শুক্রবার সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯২ শতাংশ।
তীব্র শীতের মধ্যেও পেটের দায়ে কাজে বের হওয়া দিনমজুর ওবাইদুল রহমান বলেন, আমরা দিন এনে দিন খাই। এই ঠান্ডায় বাইরে না গেলে আমাদের খাবার জুটবে না।
শ্রমিক মাসুম বিল্লাহ বলেন, কাজ না করলে পেটে ভাত যাবে না। তাই ঠান্ডা যতই হোক, জীবন বাঁচাতে আমাদের বের হতেই হবে।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে একটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে, এই শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মাসুদ রানা, দিনাজপুর (বীরগঞ্জ-খানসামা)