মুছাব্বিরের হত্যাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি স্বেচ্ছাসেবক দলের
আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা না কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মুছাব্বিরের নামাজে জানাজার আগে দলটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইয়াসীন আলী ও সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
ইয়াসীন আলী বলেন, মুছাব্বিরের হত্যাকারীদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করার দাবি জানাচ্ছি। এই গ্রেপ্তারের দাবিতে শনিবার ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে মহানগর ও জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করছি। এর মধ্যে মুছাব্বিরের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে স্বেচ্ছাসেবক দল কঠোর কর্মসূচি দেবে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পাশ্চিম পাশে তেজতুরী বাজার এলাকায় স্টার হোটেলের সামনে বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে দুর্বৃত্তরা গুলি করলে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। বৃহস্পতিবার তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম অজ্ঞাতনামা আসামি করে তেজগাঁও থানায় মামলা করেছে।
বাদজোহর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয় মুছাব্বিরের কফিন। সেখানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, এসএম জাহাঙ্গীর, মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসীন আলীসহ নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, আমি বলব, অনতিবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা জড়িত তারা যারাই হোক অনতিবিলম্বে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। আমি সরকারকে বলতে চাই আপনারা বলেছেন, আপনারা নির্বাচন করবেন। আমরা আপনাদের কথায় বিশ্বাস করছি, আপনার নির্বাচনের তারিখ দিয়েছেন আমরা তাঁকে স্বাগত জানিয়েছি।
হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, কিন্তু যখন আমরা দেখি এখন পর্যন্ত ওসমান হাদি খুনের মূল হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার হননি। মুছাব্বিরের যে হত্যাকাণ্ড হয়েছে যদিও বেশিক্ষণ হয়নি, এখানে আমাদের সহকর্মীরা বলেছেন, ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছেন। আমরা আশা করব এই সময়ের মধ্যেই হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। তা না হলে ধরে নেব আপনাদের আন্তরিকতায় কোন ঘাটতি আছে অথবা আপনারা পারবেন না। তাই সরকারকে বলব, কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
হাবিব উন নবী খান সোহেল আরও বলেন, আমি বলব, অনতিবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা জড়িত তারা যারাই হোক অনতিবিলম্বে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। আমি সরকারকে বলতে চাই আপনারা বলেছেন, আপনারা নির্বাচন করবেন। আমরা আপনাদের কথায় বিশ্বাস করছি, আপনার নির্বাচনের তারিখ দিয়েছেন আমরা তাকে স্বাগত জানিয়েছি।
হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, এই পার্টি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে আজকে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, আমাদের চেয়ারম্যান জননেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবার যে লড়াই চলছে কোন হত্যাকাণ্ড সে লড়াইয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না, কোন রক্তপাত সেই লড়াইয়ের ক্ষেত্রে কোন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারবে না। বাংলাদেশের মাটিতে আমরা নির্ধারিত সময়েই জনগণের সরকার জনগণের ভোটের মাধ্যমেই আমরা নির্বাচিত করব, কোন ষড়যন্ত্রই সেই পথে বাধা হতে পারবে না।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন মুছাব্বিরেরে হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলব আপনারা মুছাব্বিরের হত্যাকারীদের দ্রুত খুঁজে বের করুন। নইলে আমরা খুঁজে বের করব। এই হত্যা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না।
এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য আমিনুল হক বক্তব্য দেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক