হাড়কাঁপানো শীতে স্থবির জনজীবন, তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রিতে
হিমালয়ের পাদদেশঘেঁষা উত্তর জনপদের জেলা দিনাজপুরে জানুয়ারির শুরু থেকেই শীতের প্রকোপ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল হাওয়ার দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। পৌষের শেষভাগে শুরু হওয়া এই মৃদু শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে যোগ হয়েছে ঘন কুয়াশা, যা জনজীবনকে কার্যত অচল করে দিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ভোর থেকেই দিনাজপুর জেলা ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতের চাদরে ঢাকা পড়ে থাকে। কনকনে ঠান্ডার কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষকে ঘর থেকে বের হতে দেখা যায়নি। এর ফলে রাস্তাঘাট, হাট ও বাজারে মানুষের উপস্থিতি ছিল খুবই নগণ্য। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা এই তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, আজ সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৩ শতাংশ।
এই তীব্র শীতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের ও শ্রমজীবী মানুষ। জীবিকার তাগিদে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা উপেক্ষা করেই তাদের কাজে বের হতে হচ্ছে। কুলি শ্রমিক মিজানুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, কাজ না করলে পেটে ভাত জোটে না। দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের জন্য এই শীত বড় কঠিন।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. আবুল হোসেনও একই শঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, শীতে শরীর জমে গেলেও দোকান না খুলে উপায় নেই।
জেলা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, দিনাজপুরের ওপর দিয়ে বর্তমানে একটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এই শৈত্যপ্রবাহ আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

মাসুদ রানা, দিনাজপুর (বীরগঞ্জ-খানসামা)