নির্বাচন নিরপেক্ষ না হলে সংকট আরও গভীরতর হবে : জামায়াত
বিগত ৫৫ বছরে বাংলাদেশে যে সংকট তৈরি হয়েছে তা উত্তোরণের জন্য প্রয়োজন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হলে ক্রাইসিস শেষ হবে না। বরং ক্রাইসিস আবার নতুন করে তৈরি হবে, সংকট আরও গভীরতর হবে।
ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক পাওলা পাম্পালোনিএর সঙ্গে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমে এমন মন্তব্য করেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।
আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে পাওলা পাম্পালোনি এর নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন- ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মি. মাইকেল মিলার ও ইউরোপীয় এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিস দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের উপপ্রধান মিস মনিকা বাইলাইতে।
জামায়াতের আমিরের সঙ্গে ছিলেন নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ও আমীরে জামায়াতের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।
বৈঠক শেষে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, আগামী নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানো ও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে আলোচনা হয়েছে। আমরা বলেছি, বাংলাদেশে একটা স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি।
এই জামায়াত নেতা আরও বলেন, গত এক দুই সপ্তাহ ধরে সরকার ও আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী যেভাবে একটি বিশেষ দলের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে এবং প্রশাসন যেভাবে একটা দলের প্রতি আনুগত্য দেখাচ্ছে এতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে আগামী নির্বাচন অতীতের পাতানো নির্বাচনগুলোর মতো হবে কিনা? আমরা মনে করি এ ধরনের পাতানো নির্বাচন বাংলাদেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে।
আমরা নির্বাচন কমিশন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করছি তারা যেন এখনই এ ব্যাপারে সতর্ক হয়ে বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য নিরপেক্ষভাবে ভূমিকা পালন করেন।
ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমাদেরকে বলেছেন, আগামী নির্বাচনে তারা পর্যবেক্ষক পাঠাবেন। এ ব্যাপারে আমরা তাদেরকে স্বাগত জানিয়েছি। আমরা তাদেরকে বলেছি আমরা যদি ক্ষমতায় যাই তাহলে আমরা সম্মিলিতভাবে সরকার পরিচালনার পরিকল্পনা করব ও দেশী-বিদেশি সকল স্টেক হোল্ডারকে নিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভূমিকা পালন করব ইনশাআল্লাহ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমাদেরকে বলেছেন, তারা এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। তারা আশা করছেন বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আমরাও তাদেরকে আশ্বস্ত করেছি নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হওয়ার জন্যে যা কিছু করা প্রয়োজন জামায়াতে ইসলামী সেটা করবে এবং সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক