শিমের বাম্পার ফলন, দাম কমলেও লাভের মুখ দেখছেন কৃষক
দিনাজপুরে শীতকালীন সবজির তালিকায় জনপ্রিয় শিমের বাণিজ্যিক চাষে বড় সাফল্য পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতে দাম আকাশচুম্বী থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমেছে। তবে ফলন অত্যন্ত ভালো হওয়ায় সামগ্রিকভাবে লাভের মুখ দেখছেন জেলার চাষিরা।
চলতি মৌসুমে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আগাম জাতের ‘বারি–১’ এবং স্থানীয় ‘পুটিয়া’ জাতের শিম চাষে ঝোঁক বেড়েছে কৃষকদের। মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, বাঁশের খুঁটি ও নেটের মাচায় সবুজের সমারোহের মাঝে শোভা পাচ্ছে বেগুনি ফুল আর থোকায় থোকায় ঝুলছে শিম। ডিসেম্বর থেকে পুরোদমে বাজারে আসা শুরু করলেও এখন প্রতিটি গাছেই শিমের পর্যাপ্ত ফলন দেখা যাচ্ছে।
চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৌসুমের শুরুতে শিম প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে বাজারে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা ও টমেটোসহ অন্যান্য শীতকালীন সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় শিমের দাম কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় নেমে এসেছে। তবে একবার খরচ উঠে যাওয়ার পর একাধিকবার শিম তোলার সুযোগ থাকায় কৃষকরা লোকসানের পরিবর্তে লাভই করছেন।
দিনাজপুর সদরের টিকলির মাঠের কৃষক রশিদুল ইসলাম জানান, ১২ শতক জমিতে শিম চাষ করে প্রথম দফাতেই তার খরচ উঠে এসেছে। এখন থেকে যা বিক্রি করবেন সবই তার মুনাফা।
একই এলাকার আব্দুল কুদ্দুস ১০ শতক জমিতে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার শিম বিক্রির আশা করছেন। তার মতে, মাত্র তিন মাসের পরিশ্রমে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব।
চাষি মমিনুল ইসলাম বলেন, শিম চাষ অত্যন্ত লাভজনক। গাছ বড় হওয়ার পর নিয়মিত পরিচর্যা ও সাধারণ কীটনাশক দিলেই চলে। এ বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় রোগবালাইও তেমন একটা হয়নি।
এদিকে, দাম কমায় স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে। বাহাদুর বাজারে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী শিউলি বেগম বলেন, আগে ১০০ টাকার বেশি দিয়ে শিম কিনতে হতো, এখন ৩০-৪০ টাকায় পাওয়ায় আমাদের জন্য খুব সুবিধা হয়েছে।
দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন তুষার বলেন, অক্টোবরের শুরুতে শিম রোপণ করলে মাত্র ৪৫-৫০ দিনেই ফলন পাওয়া যায়। এ বছর ‘বারি–১’ জাতের শিম খুব ভালো ফলন দিয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উপসহকারী কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন এবং ৩৫ জন কৃষককে বিভিন্ন উপকরণসহ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। দাম কিছুটা কমলেও অধিক ফলনের কারণে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

মাসুদ রানা, দিনাজপুর (বীরগঞ্জ-খানসামা)