২৯ কোটি টাকার সম্পদের মালিক ফজলুর রহমানের ঋণ ১০ লাখ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম) আসন থেকে অংশ নেওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামাও জমা দিয়েছেন তিনি। হলফনামায় দেখা যায় তাঁর কোনো কৃষি জমি নেই।
কৃষি জমি নেই
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ফজলুর রহমানের কোনো কৃষি জমি নেই। তবে তাঁর আয়ের প্রধান উৎস আইন পেশা ও বাড়ি ভাড়া। বাড়ি ও ফ্ল্যাট ভাড়া থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা। এছাড়া আইন পেশা থেকে বছরে ২ লাখ ১২ হাজার ৯০০ টাকা এবং ব্যাংক আমানত থেকে ১৩ হাজার ৩৬৬ টাকা আয় করেন তিনি। তবে তাঁর সন্তানদের কোনো আয়ের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।
স্থাবর সম্পদ
রাজধানীর উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরে ফজলুর রহমানের দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ২০ লাখ টাকা। অকৃষি জমি ১.২৫ কাঠা, যার অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে এক লাখ ২০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ফজলুর রহমানের স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ২১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এছাড়া স্ত্রীর ৫৫ শতকের অকৃষি জমি, যার মূল্য ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। কিশোরগঞ্জের ইটনায় ১২ শতক জমির ওপর নির্মাণাধীন ভবনের মূল্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে তার স্ত্রীর অর্জনকালীন সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। যার বর্তমান মূল্য এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা।
নিজের গাড়ি নেই, আছে স্ত্রীর
ফজলুর রহমানের কোনো মোটরযান না থাকলেও তাঁর স্ত্রীর নামে ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের মোটরযানসহ ২ লাখ ২০ হাজার টাকার আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে। তবে ফজলুর রহমানের রয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র।
এছাড়া ফজলুর রহমানের কাছে নগদ রয়েছে ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৫২ টাকা এবং তাঁর স্ত্রীর কাছে ৭ হাজার ১২৮ টাকা। ব্যাংকে ফজলুর রহমানের জমা আছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫৫১ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে আছে ১০ লাখ ৪০ হাজার ৪০১ টাকা।
সব মিলিয়ে ফজলুর রহমানের অর্জনকালীন অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ২৭ কোটি ৯১ লাখ ২৯০ টাকা, যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য একই দেখানো হয়েছে। আর তাঁর স্ত্রীর অর্জনকালীন অস্থাবর সম্পত্তি ২৯ লাখ ৮৭ হাজার ৫২৯ টাকা। তাঁরও বর্তমানে আনুমানিক মূল্য একই।
ফজলুর রহমানের ব্যাংকের দায়
মো. ফজলুর রহমানের নামে ১০ লাখ টাকার একটি দায় রয়েছে, যা তিনি ‘মুক্তিযোদ্ধা হিসাব’ থেকে অগ্রিম হিসেবে নিয়েছেন।
মামলা
এছাড়া তার বিরুদ্ধে বর্তমানে একটি ফৌজদারি মামলা (মানহানি সংক্রান্ত ধারা ১২৪ ক) মহামান্য হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে। ১৯৭০ সালের একটি পুরোনো মামলায় তিনি আগেই খালাস পেয়েছেন।
৭৭ বছর বয়সী এই প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এম.এ, এলএলবি। তিনি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার করনসী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তাঁর দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে অনিক রহমান একজন এআই বিশেষজ্ঞ এবং ছোট ছেলে অভিক রহমান সুপ্রিম কোর্টের ব্যারিস্টার।

ফখরুল ইসলাম (শাহীন)