৬৬ ভাগ প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন ‘রাতের ভোটের’ সংসদের সংরক্ষিত এমপি রুমিন
সদ্যবহিষ্কৃত বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। নির্বাচনের লক্ষ্যে গত ২৯ ডিসেম্বর সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবু বকর সরকারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। ইতোমধ্যে তাঁর প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
রুমিন ফারহানা তাঁর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় সম্পদের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ‘রাতের ভোট’ হিসেবে খ্যাত ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তার প্রতিশ্রুতির ৬৬.২৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
রুমিন ফারহানার অস্থাবর সম্পত্তি
নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ ৩২ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা। স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে ১০ ভরি। সব মিলিয়ে রুমিন ফারহানার অর্জনকালীন সম্পদের মূল্য ৩২ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা দেখানো হয়েছে। যা বর্তমান বাজার মূল্য একই বলে উল্লেখ করেছেন।
রুমিন ফারহানার স্থাবর সম্পত্তি
স্থাবর সম্পত্তিতে তিনি উল্লেখ করেছেন রাজধানীর ধানমণ্ডির ল্যাবরেটরি রোডে মায়ের কাছ থেকে হেবানামায় পাওয়া (যার মূল্য অজানা) সম্পত্তির উল্লেখ করেছেন। তবে লালমাটিয়ায় অবস্থিত পাঁচ কাঠা জমি ও পাঁচটি ফ্ল্যাট তিনি বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন, যার জন্য কোনো মূল্য পরিশোধ করা হয়নি। এছাড়া রাজধানীর পুরানা পল্টনে ১ হাজার ২৫৮ দশমিক ৮৮৪ বর্গফুটের একটি স্পেস রয়েছে, যার মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা।
রুমিন ফারহানার মোট অর্জনকালীন সম্পদের মূল্য দেখিয়েছেন ৬৫ লাখ টাকা। বর্তমানেও যার আনুমানিক মূল্য দেখিয়েছেন একই।
আয়কর রিটার্ন
রুমিন ফারহানা তার হলফনামার আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করেছেন, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বার্ষিক আয় ৯৭ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা। রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের তিনটি ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট আইনে ও ২০২৩ সালে একটি ফৌজদারি মামলা ছিল; যা ২০২৫ সালে এই চারটি মামলাই নিষ্পত্তি হয়েছে।
রুমিন ফারহানার পেশা
হলফনামায় পেশা হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট উল্লেখ করেছেন। তার নামে কোনো ব্যাংকে জমাকৃত টাকা, বিদেশি মুদ্রা, শেয়ার, বন্ড বা স্টক এক্সচেঞ্জে বিনিয়োগ নেই বলে উল্লেখ করেছেন। তার নিজ নামে কোনো যানবাহন নেই। তিনি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করেননি বলেও উল্লেখ করেছেন।
কৃষি খাত থেকে রুমিন ফারহানার কোনো আয় নেই। তবে বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ভাড়া বাবদ বছরে আয় ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। আইন পরামর্শক হিসেবে কাজ করে আয় করেন ৬ লাখ টাকা। এছাড়া অন্যান্য উৎস থেকে বছরে আয় করেন ৫ হাজার ৫৫২ টাকা। রুমিন ফারহানা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক আয়কর রিটার্ন দেখিয়েছেন ৯৭ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা।
নির্বাচনি ব্যয়, খালাতো ভাই থেকে প্রদত্ত ৫ লাখ
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে রুমিন ফারহানা মোট ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছেন। এর মধ্যে নিজের আয় থেকে ২০ লাখ টাকা এবং প্রবাসী খালাতো ভাই গালিব মেহেদীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
পূর্বের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ৬৬ শতাংশ
রুমিন ফারহানা তার হলফনামায় ২০১৯ সালে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে ভোটারদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করার বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে ৭০ শতাংশ রাস্তাঘাট উন্নয়ন, ৬৫ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, ৮০ শতাংশ মাদক নিয়ন্ত্রণ ও ৫০ শতাংশ বেকারত্ব দূরীকরণ অর্জন করেছেন।

সোহরাব মাহাদী
ফখরুল ইসলাম (শাহীন)