বন্ধ চালকল সচল দেখিয়ে সরকারি গুদামে চাল সরবরাহের অভিযোগ
পটুয়াখালীর বাউফলে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা একাধিক চালকল কাগজে-কলমে সচল দেখিয়ে সরকারি গুদামে চাল সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে খাদ্য বিভাগের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে একটি চক্র বাইরে থেকে নিম্নমানের চাল কিনে গুদামে সরবরাহ করে সরকারি অর্থ লোপাট করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার বগা ও কালাইয়া খাদ্য গুদামের জন্য প্রথম দফায় ৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৫৩০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে কালাইয়া গুদামের জন্য ৫৫০ মেট্রিক টন ও বগা গুদামের জন্য ৯৮০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের কথা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী মিল মালিকদের স্থানীয় বাজার থেকে ধান সংগ্রহ করে নিজস্ব মিলে প্রক্রিয়াজাত করে প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে উৎকৃষ্ট মানের চাল গুদামে সরবরাহ করার কথা।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, বগা খাদ্য গুদামের জন্য সোনাই অটো রাইস মিল এবং কালাইয়া খাদ্য গুদামের জন্য সিকদার অটো রাইস মিল, সুচিত্রা রাইস মিল, হিরোন বালা রাইস মিল ও মেসার্স প্যাদা রাইস মিলের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। তবে সোনাই ও সিকদার অটো রাইস মিল বাদে বাকি তিনটি চালকলই কয়েক বছর ধরে পুরোপুরি বন্ধ। সরজমিনে ওই মিলগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ধান ভাঙানো বা শুকানোর কোনো কার্যক্রম নেই; এমনকি যন্ত্রপাতিতে মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে আছে।
অভিযোগ রয়েছে, সুচিত্রা রাইস মিলের মালিক রমেশ সাহা কয়েক বছর ধরে তার মিল বন্ধ থাকলেও চলতি মৌসুমে ২৬ টন চাল গুদামে সরবরাহ করেছেন। তিনি জেলার বাইরে থেকে নিম্নমানের চাল কিনে এনে নিজস্ব মিলের নামে সরবরাহ করার কথা স্বীকার করেছেন।
একইভাবে হিরোনবালা রাইস মিলের মালিক শঙ্কর দাস এবং প্যাদা রাইস মিলের মালিক রশিদ প্যাদাও তাদের মিল বন্ধ থাকার কথা স্বীকার করে জানান, তারা অফিসের লোকজনকে ‘ম্যানেজ’ করে বাইরে থেকে কেনা চাল সরবরাহ করছেন।
চুক্তি অনুযায়ী চালের আর্দ্রতা ১৪ শতাংশ হওয়া এবং ভাঙা বা লাল দানা মুক্ত হওয়া বাধ্যতামূলক হলেও গুদামে সরবরাহ করা চালের মান অত্যন্ত নিম্নমুখী।
গুদাম সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এসব চালে আর্দ্রতা এবং ভাঙা দানার পরিমাণ বেশি হওয়ায় তা দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে না।
কালাইয়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকবালুল রহমান অনিয়মের কথা স্বীকার করলেও পরে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. নুরুল্লাহ্ বলেন, চুক্তির সময় চালকলগুলো চালু ছিল; এখন বন্ধ থাকলে আমাদের কিছু করার নেই।

এম.এ হান্নান, পটুয়াখালী (বাউফল-দুমকি)