কর্তৃপক্ষের অবহেলায় বৃত্তি পরীক্ষা দেওয়া হলো না ১১ শিক্ষার্থীর
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম ফয়েজুন্নেছা মহিলা মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও গাফিলতিতে ২০২৫ সালের জুনিয়র (দাখিল অষ্টম শ্রেণি) বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি ১১ জন শিক্ষার্থী। আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সারা দেশে একযোগে এই পরীক্ষা শুরু হলেও রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণ সংক্রান্ত জটিলতায় ওই শিক্ষার্থীরা কেন্দ্র থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌদ্দগ্রাম নজমিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ফয়েজুন্নেছা বালিকা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষার দিন কেন্দ্রে গিয়ে শিক্ষার্থীরা জানতে পারে, তাদের ডাটা অনলাইনে সাবমিট করা হয়নি। ফলে পরীক্ষায় বসার কোনো সুযোগ নেই তাদের। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই তাদের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে।
ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তাদের অনেক দিনের প্রস্তুতি ছিল এবং সবাই ভালো ফলাফলের আশা করেছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষের ভুলে আজ তাদের এক বছরের পরিশ্রম বৃথা গেল। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম ফয়েজুন্নেছা মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আহসান উল্লাহ বলেন, ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের তথ্য সাবমিটজনিত ভুলের কারণে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। আমরা গত ২১ ও ২২ ডিসেম্বর বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডেও গিয়েছিলাম। কিন্তু অফিশিয়াল নিয়মের কঠোরতার কারণে শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। আমরা বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছি।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম মীর হোসেন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমাকে আগে জানানো হয়নি। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বা অভিভাবক– কেউই আমাকে বিষয়টি অবহিত করেননি। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে বিধি মোতাবেক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মনোয়ার হোসেন, কুমিল্লা (চৌদ্দগ্রাম)