কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত জনজীবন, তীব্র শীতের পূর্বাভাস
উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা দিনাজপুরে শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। ডিসেম্বরের শেষপ্রান্তে কনকনে ঠান্ডা, হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার সঙ্গে বৃষ্টির মতো ঝরতে থাকা কুয়াশা জনজীবনকে করে তুলেছে দুর্বিষহ।
পৌষের শুরুতেই উত্তরাঞ্চলে জেঁকে বসা এই শীতের সঙ্গে কুয়াশার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ঠান্ডার অনুভূতি আরও বেড়েছে। শীতের দাপটে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এর ফলে জেলার দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা নেমে এসেছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রার গতি অনেকটাই মন্থর হয়ে পড়েছে।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ভোর হওয়ার আগেই দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘন কুয়াশার চাদরে আচ্ছাদিত হয়ে পড়ে। সকাল থেকে শুরু হওয়া হিমেল হাওয়া সারাদিন ধরে অব্যাহত থাকায় সড়ক, হাটবাজার ও খোলা জায়গাগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো কম। জরুরি কাজ ছাড়া অধিকাংশ মানুষই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। যারা বের হচ্ছেন, তারাও কনকনে ঠান্ডা থেকে রক্ষা পেতে গায়ে জড়াচ্ছেন মোটা শীতবস্ত্র।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, আজ সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯২ শতাংশ, ফলে ঠান্ডার তীব্রতা আরও বেড়ে গিয়ে শীতের অনুভূতি বেশি প্রকট হয়।
বিশেষত খানসামা ও বীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শীতের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে। ভোরের কনকনে ঠান্ডায় দিনমজুর, রিকশাচালকসহ নিম্ন আয়ের মানুষেরা কাজে বের হতে পারছেন না। এর ফলে তাদের দৈনন্দিন আয়ে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
অটোরিকশাচালক কাশেম জানান, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে মানুষ ঘর থেকে বের হতে চাইছে না, ফলে যাত্রী সংকট দেখা দিয়েছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আয় হতো, সেখানে গত দুই দিন ধরে তা কমে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় নেমে এসেছে। শীত মৌসুম এলেই আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট বেড়ে যায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দিনমজুর আলী বলেন, অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে কাজ প্রায় বন্ধের মতো অবস্থা। শীতের ভয়ে অনেকেই শ্রমিক নিতে চাইছেন না। কাজ না থাকলে সংসার চালানো অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে আলু চাষি পরিমল রায় জানান, ভোরবেলা আলু ক্ষেতে সেচ দিতে এসে প্রচণ্ড ঠান্ডায় বেশিক্ষণ মাঠে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। শরীর কাঁপতে থাকায় কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, আগামীকাল সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) থেকে জেলার ওপর শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতি ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মাসুদ রানা, দিনাজপুর (বীরগঞ্জ-খানসামা)