নতুন এক বাংলাদেশে ফিরছেন তারেক রহমান
দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনের ইতি টেনে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১৭ বছর পর তিনি ফিরছেন নতুন এক বাংলাদেশে, জুলাইয়ের গণআন্দোলনে বদলে যাওয়া এক বাংলাদেশে।
আজ বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ১২টায় বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত একটি ফ্লাইটে চড়ে দেশের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন তিনি। সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারস্টিার জাইমা রহমান। এছাড়া তারেক রহমানের ব্যক্তিগত স্টাফরাও আছেন। একই ফ্লাইটে আসবে তাদের ‘পরিবারের সদস্য’ একটি বিড়াল।
ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তারেক রহমানকে স্বাগত জানাবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
তারেক রহমানকে স্বাগত জানতে প্রস্তুত পুরো বাংলাদেশের মানুষ। সারাদেশ থেকে বিএনপির নেতাকর্মী ছাড়াও অসংখ্য সাধারণ মানুষ রাজধানীতে আসছেন তারেক রহমানকে এক নজর দেখতে, স্বাগত জানাতে। বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীমুখী জনতার ঢল নেমেছে।
স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে তারেক রহমানকে স্বাগত জানতে বিএনপির পক্ষ থেকে রাজধানীর ৩০০ ফিটে তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। এই মঞ্চ থেকে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য দেবেন। তিনি একাই বক্তব্য দেবেন বলেন বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
বিমানবন্দরে নেমে সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা খালেদা জিয়ার কাছে যাবেন তারেক রহমান। মাঝপথে ৩০০ ফিটে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেবেন তিনি। হাসপাতালে মায়ের পাশে কিছু সময় থেকে তিনি গুলশানে মায়ের বাসা ‘ফিরোজা’য় যাবেন তারেক রহমান।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে যে জনসমাগম হবে তাতে দেশ একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত দেখবে বলে প্রত্যাশা জানিয়েছেন তার অভ্যর্থনায় গঠিত কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।
রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তারেক রহমান সবসময় জনদুর্ভোগ পরিহার করে চলেন এবং এমন কোনো কর্মসূচি সমর্থন করেন না; যা সাধারণ মানুষের কষ্টের কারণ হয়। সেই লক্ষ্যেই তিনি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ভিড় না করতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। বাংলাদেশেও তার আগমন উপলক্ষে যেন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। আমরা তার নির্দেশনা পালনের আন্তরিক চেষ্টার পরও সেটা হয়তো শতভাগ প্রতিপালন করতে পারিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, তিনি (তারেক রহমান) স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, তিনি বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তার চিকিৎসাধীন গুরুতর অসুস্থ মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে যাবেন। যেতে চান তার পিতা শহীদ জিয়ার মাজার জিয়ারত করতে। যেতে চান ভাইয়ের কবরের পাশে। তারেক রহমান ছাড়া এই অনুষ্ঠানে কেউ বক্তব্য রাখবেন না। বিমানবন্দর তারেক রহমানকে স্বাগত জানাবেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। সেখান থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের এভারকেয়ারে যাওয়ার পথে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন।
তারেক রহমান দেশে ফিরে পরদিন ২৬ ডিসেম্বর বাদ জুমআ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এছাড়া ২৭ ডিসেম্বর এনআইডি কার্ডের কাজ শেষে শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করবেন এবং পঙ্গু হাসপাতালে যাবেন আহত জুলাই যোদ্ধারে দেখতে।

মাহমুদুল হাসান