ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক হত্যা, আসামির স্বীকারোক্তি
নেত্রকোনার আটপাড়ায় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালককে হত্যা করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় বলে জানান আটপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান।
এর আগে শুক্রবার সকালে মদন উপজেলার জয়পাশা এলাকায় আটপাড়া-মদনগামী রাস্তা থেকে তাকে মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার করা মো. শরিফ মিয়া (৩০) মোহনগঞ্জ উপজেলার ভাটি সুয়াইর (নয়াপাড়া) গ্রামের মো. স্বাধীন মিয়ার ছেলে।
গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে আটপাড়া উপজেলার বাউসা হাওরে চালক সোহাগ চৌধুরীকে (৪৩) খুন করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
চার সন্তানের জনক সোহাগ চৌধুরী খালিয়াজুরী উপজেলার মেন্দীপুর গ্রামের প্রয়াত মতিউর রহমান চৌধুরীর ছেলে। তিনি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ঘটনার দুদিন পর গত বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সোহাগের স্ত্রী আজিদা আক্তার বাদী হয়ে আটপাড়া থানায় হত্যা মামলা করেন।
ওসি আশরাফুজ্জামান বলেন, ছিনতাই করা মোটরসাইকেলসহ শরীফকে গ্রেপ্তার করে আটপাড়া থানা পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যে ঘটনাস্থলের পাশে একটি ধান খেত থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়। বিকেলে আদালতে জবানবন্দি শেষে শরীফকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।
আদালতে আসামির দেওয়া জবানবন্দি ও মামলার বরাতে ওসি বলেন, ‘ঘটনার দিন সকালে সোহাগ মোহনগঞ্জের আদর্শনগর এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে মদন উপজেলায় যান। পরে রাত ৯টার দিকে আটপাড়ার বাউসা এলাকায় যাওয়ার জন্য সোহাগের মোটরসাইকেল ভাড়া করেন শরীফ। ‘পথে বাউসা হাওরে রাত ১০টার দিকে মোটরসাইকেলের পেছনে বসা শরীফ হঠাৎ ছুরি বের করে সোহাগের বুকে আঘাত করেন। এতে সোহাগ পড়ে গেলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান শরীফ।’ পথে অন্য মোটরসাইকেল চালকরা সোহাগকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান ওসি।

ভজন দাস, নেত্রকোনা