যৌনসন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি
নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াই নারীর একার নয়। নারী-পুরুষ উভয়কে সংঘবদ্ধভাবে এ লড়াইয়ে অংশ নিতে হবে। নারী নির্যাতনকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে নারী সংহতি আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ বক্তারা এসব দাবি জানান।
পয়লা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলসহ সারা দেশে নারীদের ওপর অব্যাহত যৌন সন্ত্রাসের প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। নারী সংহতির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে নারী সংহতির সভাপতি শ্যামলী শীলের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন, গীতি আরা নাসরীন ও আনু মুহাম্মদ, গবেষক মেঘনা গুহঠাকুরতা, উন্নয়ন সংগঠক খুশি কবীর, শিক্ষক তানজিম উদ্দিন খান, ড. খায়রুল চৌধুরী, শিক্ষক সামিনা লুৎফা নিত্রা, শিক্ষক ফারহানা জামান, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, সংগঠক ও সংস্কৃতিকর্মী অমল আকাশ, শিল্পী কাজী কৃষ্ণকলি ইসলাম, ডা. ফৌজিয়া হোসেন, শিল্পী অরূপ রাহী, অভিনয়শিল্পী বন্যা মির্জা, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির আহ্বায়ক ও নারী সংহতির সহসভাপতি তাসলিমা আখ্তার, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি প্রমুখ।
বাংলাদেশের নারীর ওপর সংগঠিত নির্যাতন-সহিংসতার ভয়াবহতা তুলে ধরে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, তিন বছরের শিশু কি বৃদ্ধা, আর গরিব মেহনতি নারীর তো কথাই নাই, এমনকি শিক্ষিত উচ্চবিত্ত নারীরাও সহিংসতার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। এমন নিষ্ঠুর পরিস্থিতিতেও রাষ্ট্র-সমাজ আজ নির্বিকার।
ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির ফলে দেশে ক্রমাগত নারীর ওপর সহিংসতা বেড়েই চলেছে। নারীর নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহিতা ও শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন বলেন, ক্ষমতাসীনদের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশে যৌন নিপীড়ক-ধর্ষকরা বুক ফুলিয়ে দাপটে ঘুরে বেড়ায়। তিনি ধর্ষক, যৌন নিপীড়ক ও এদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে বৃহত্তর নারী আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
মানবাধিকার সংগঠক খুশী কবির বলেন, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে নারীর লড়াই একার নয়। নারী-পুরুষ উভয়কে সংঘবদ্ধভাবে এ লড়াইয়ে অংশ নিতে হবে।
জোনায়েদ সাকি তাঁর বক্তব্যে বলেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তাবলয়ের নাকের ডগায় বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। রাষ্ট্র-সরকার সংঘবদ্ধভাবে যৌনসন্ত্রাসী চক্রকে রক্ষা করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে শ্যামলী শীল বলেন, পুরুষতান্ত্রিক-ফ্যাসিবাদী শাসনক্ষমতার বিরুদ্ধে সংগ্রামে জয়ী হতে হলে গণতান্ত্রিক ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। পাড়ায়-মহল্লায়-প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশ শেষে মশাল মিছিল শাহবাগ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

অনলাইন ডেস্ক