১৩ মাস পর ফিরেছে রোকসানা, কিন্তু..
অভাবের সংসারে একটু খানি স্বচ্ছলতা আনতে মাত্র তিন হাজার টাকা মাসিক বেতনে মেয়ে রোকসানা খাতুনকে (১৫) ঢাকায় বাসাবাড়িতে কাজে পাঠান ফরিদপুরের শাহাদাত শেখ। এরপর থেকেই শুরু হয় রোকসানার বন্দিজীবন। বিভিন্ন সময় তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এমনকি বাবার সঙ্গেও দেখা করতে দেওয়া হতো না।
মেয়ের দেখা না পেয়ে শোকে কাতর বাবা শাহাদাত মারা যান। দীর্ঘ ১৩ মাস পর বাড়ি ফিরতে পেরেছে রোকসানা। কিন্তু ওই বাড়িতে সবাই আছে। নেই রোকসানার প্রিয় বাবা।
জানা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের শাহাদাত নিজেও ঢাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ওই সুবাদে পরিচয় হয় পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকার হাবিব নামের একব্যক্তির সঙ্গে। পরে হাবিরের স্ত্রী পারভীনের মাধ্যমেই গত বছরের অক্টোবর মাসে মাত্র তিন হাজার টাকা মাসিক বেতনে গেন্ডারিয়া এলাকার আলামিন নামের একব্যক্তির বাসায় কাজে যোগ দেয় রোকসানা।
ঢাকায় থাকার সুবাদে মাঝে মধ্যেই মেয়েকে দেখতে যেতেন শাহাদাত শেখ। কিন্তু একটা সময়ে এসে মেয়ে রোকসানার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয় না তাকে। তবে রোকসানার মাসিক বেতন ঠিকই দেওয়া হতো। পরপর তিন মাসের বেতন পরিশোধ করেন গৃহকর্তা আলামিন। এরপর থেকে রোকসানার সঙ্গে শাহাদাতের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও মেয়েকে এক নজর দেখতে না পাওয়ার শোকে ক্রমেই অসুস্থ হয়ে পড়েন শাহাদাত। মেয়ের শোকে কাতর শাহাদাত শেখ গত ১ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
এদিকে মেয়েকে ফিরে পেতে গত ২৪ অক্টোবর রোকসানার মা বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাষ্ট (ব্লাস্ট) ফরিদপুর জেলা শাখায় অভিযোগ করেন। পরে ব্লাস্টের অ্যাডভোকেসি অফিসার হাসিনা মমতাজ লাভলী, গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রেজাউল করিম বাচ্চু এবং বাংলাদেশ ইউনিয়ন অব লেবার স্টাডির সহযোগিতায় দীর্ঘ ১৩ মাস পর গত ২৪ নভেম্বর রোকসানাকে আলামিনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে ফরিদপুরে তাঁর মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
রোকসানা বলেন, ‘আমাকে বাড়ির মালিক আলামিন ও তার স্ত্রী তুনাজ্জিনা অনেক নির্যাতন করত। অনেক সময় খেতে দিতে না। মারধর করত।’
এ বিষয়ে ব্লাস্টের কর্মকর্তা হাসিনা মমতাজ লাভলী বলেন, ‘আমরা রোকসানকে এক মাসের মধ্যে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছি। দুঃখজনক হলো রোকসানার বাবা মেয়েকে শেষ দেখাও দেখে যেতে পারলেন না।’

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর