বাড়ি বরাদ্দ পেয়েও ন্যাম ফ্ল্যাট ছাড়েননি চার মন্ত্রী
মন্ত্রিপাড়া হিসেবে খ্যাত রাজধানীর অভিজাত মিন্টো রোডে ফ্ল্যাট বা বাড়ি বরাদ্দ পাওয়ার পরও চারজন মন্ত্রী ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট ছাড়েননি। ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট ছেড়ে দেওয়ার জন্য বেশ কয়েকবার লিখিত তাগিদ দেওয়া হয়। সর্বশেষ ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে গত ৬ মে চিঠি দেওয়া হয়। সেই সময়সীমা আজ বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। কিন্তু চার মন্ত্রীর কেউই ন্যাম ভবন ছাড়ার উদ্যোগই নেননি।
বার বার তাগাদা দেওয়ার পরও ন্যাম ফ্ল্যাট না ছাড়ায় বিষয়টি ‘সংসদ কমিটি’তে উঠেছে। আজ জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির ষষ্ঠ বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়।
কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে পঞ্চম বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয় এবং এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
ন্যাম ভবন না ছাড়া চার মন্ত্রী হলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
সংসদ কমিটি সূত্র জানায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কমিটির পঞ্চম বৈঠকে ১৫ দিনের মধ্যে ফ্ল্যাটের দখল ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুনরায় চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ৬ মে চার মন্ত্রীকে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু ওই চার মন্ত্রী ফ্ল্যাটের দখল বুঝিয়ে দেননি বলে কমিটিতে অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট ছেড়ে না দেওয়ার কারণে বারবার টেলিফোনে ও চিঠি দিয়ে মন্ত্রীদের জানানো হয়েছে। কিন্তু ফ্ল্যাটে মালামাল রয়েছে বা পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি এই কারণ দেখিয়ে তাঁরা ফ্ল্যাট ছাড়তে পারছেন না।
আগের বৈঠকে এই তালিকায় পাঁচজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ন্যাম ফ্ল্যাট না ছাড়ার অভিযোগ থাকলেও আজকের সংসদ কমিটিতে চার মন্ত্রীকে নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনা থেকে বাদ যায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর নাম।
এ বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘উনার নাম যেহেতু নেই, তাই ধরে নেওয়া হচ্ছে উনি হয়তো ছেড়ে দিয়েছেন।’ আজকের বৈঠকে চার মন্ত্রীকে ন্যাম ফ্ল্যাট ছাড়ার জন্য আবারও চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।
এ ছাড়া আজকের বৈঠকে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ছয়টি সংসদ সদস্য ভবন এবং নাখালপাড়ার চারটি সংসদ সদস্য ভবনে অবস্থানরত সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তা প্রদান, মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পানি-বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যার সমাধান এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি সংক্রান্ত সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি এসব ভবনে বসবাসরত সংসদ সদস্যদের কাউন্সিলিং করার জন্য সংসদ সচিবালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে মানিক মিয়া এভিনিউয়ের সংসদ সদস্য ভবনে বসবাসরত সদস্যদের শব্দ দূষণ থেকে রক্ষা করার জন্য ভবনগুলোতে সাউন্ড প্রটেক্টর ব্যবস্থা চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রতিটি ভবনে পাঁচ সদস্যের ভবন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে এসব ভবনে দুটি লিফটের মধ্যে একটি লিফট শুধু সংসদ সদস্যদের জন্য সংরক্ষণ, ভবনের দেয়ালে লাগানো পোস্টার পরিষ্কার করা এবং পুনরায় কেউ যাতে কোনো ধরনের পোস্টার না লাগাতে পারে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
মানসম্মত কাজ নিশ্চিতকরণ এবং কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংসদ ভবন এলাকায় পিডব্লিউডির গৃহীত কাজগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করার আগে কমিটিকে অবহিত করার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে মানিক মিয়া এভিনিউয়ের এক থেকে ছয় নম্বর সংসদ সদস্য ভবনের লিফট দ্রুত পরিবর্তন ও মেরামতের জন্য পুনরায় পিডব্লিউডিকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
কমিটির সদস্য মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী, মো. আব্দুস শহীদ, হুইপ মোছা. মাহবুব আরা বেগম গিনি, পঞ্চানন বিশ্বাস, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মো. আসলামুল হক এবং নাজমুল হক প্রধান বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া পিডব্লিউডি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা