স্বাস্থ্য খাতকে প্রাধান্য দিয়ে কৌশল প্রণয়নের নাসিমের আহ্বান
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতকে প্রাধান্য দিয়ে কৌশল প্রণয়নে সবাইকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। আগামী ডিসেম্বরে প্যারিসে অনুষ্ঠেয় প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে এই খাতে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে বিশ্ব নেতাদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
গতকাল বুধবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ৬৮তম সম্মেলনে ‘জলবায়ু ও স্বাস্থ্য শীর্ষক’ এক টেকনিক্যাল ব্রিফিংয়ে বক্তৃতাকালে মোহাম্মদ নাসিম এ আহ্বান জানান। জেনেভার জাতিসংঘ ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ক্ষতির শিকারের সম্মুখীন একটি দেশ। বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকি সূচকেও বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশসহ অনেক অনুন্নত দেশের কোনো ভূমিকাই নেই। এরই মধ্যে সব রকমের চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশে পড়তে শুরু করেছে। বর্ষা মৌসুমে কম বৃষ্টি, শীতকালে শীত না পড়া, গ্রীষ্মকালে ভয়াবহ তাপমাত্রা বৃদ্ধির মতো আবহাওয়ার অনিয়মিত ও অস্বাভাবিক প্রকৃতি বাংলাদেশকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। নদী ও জলাশয় শুকিয়ে যাচ্ছে, যা জমির উর্বরতা কমিয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটছে।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জলবায়ুর অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ফলে এই শতাব্দীর মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠ এক মিটার বৃদ্ধি পেয়ে বাংলাদেশের ১৭ শতাংশ জমি তলিয়ে যাবে এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব বর্তমানে এক হাজার ১০০ থেকে বেড়ে এক হাজার ৭৩৫ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন সম্পূর্ণ বিনষ্ট হবে। আট মিলিয়ন ঘরবাড়িসহ অনেক রাস্তাঘাট, শিল্পকারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল পানিতে তলিয়ে যাবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন সমস্যা মোকাবিলায় উপকূলীয় সতর্কতা এবং জনগণকে নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য উন্নত ব্যবস্থাপনা প্রণয়ন, জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিল গঠনসহ গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এরই মধ্যে বাংলাদেশ এ সমস্যা এবং এ থেকে সৃষ্ট বিভিন্ন রোগ মোকাবিলায় নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রশংসিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। তিনি বলেন, দেশের দুর্যোগ প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা ক্ষমতা আরো বাড়াতে প্রযুক্তি, সম্পদ ও জনবলের আরো প্রয়োজন, যা স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান ও ভৌত অবকাঠামো সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে। তবে এ জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। তিনি এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা বাড়াতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক মার্গারেট চ্যাইন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জনস্বাস্থ্য পরিচালক মারিয়া নেইরাসহ বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পুনম ক্ষেত্রপালের বৈঠক
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক পুনম ক্ষেত্রপালের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এ সময় মোহাম্মদ নাসিম বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা এগিয়ে নিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আরো সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, সাড়ে ১৩ হাজার কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এসব কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিক থেকে মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পাচ্ছেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিরলস প্রচেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ সাহসী নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ শিশু ও মাতৃ মৃত্যুহার হ্রাস করতে সক্ষম হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক