প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আইভীর কৃতজ্ঞতা
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবন থেকে নারায়ণগঞ্জে ফিরে নারায়ণগঞ্জ নগরীর দলীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আইভী।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সেলিনা হায়াৎ আইভী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি নারায়ণগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে এবং আলী আহমেদ চুনকা পরিবারের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পাশাপাশি মনোনয়ন বোর্ডে যাঁরা ছিলেন, আমি সকলকে আমার নারায়ণগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
আইভী বলেন, ‘আপনারা দেখতে পারছেন নারায়ণগঞ্জের লোকজন তৃণমূল যাকে বলে, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আজকে এখানে তারা কীভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে এটা আমাদের কৃতজ্ঞতা জননেত্রীকে। আমি মনে করি মনোনয়ন বোর্ড আজকে যে সম্মান দেখিয়েছে, যে নমিনেশন দিয়েছে, নারায়ণগঞ্জবাসী সেটা উপহার দেবে ২২ ডিসেম্বর ইনশাল্লাহ।’
মেয়র পদে নির্বাচন করতে হলে পদত্যাগ করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের এমন বিধি প্রসঙ্গে বর্তমান মেয়র আইভী বলেন, ‘আইন দেখে ও নির্বাচন কমিশনের চিঠি পেলে আমি কবে পদত্যাগ করব সেই সিদ্ধান্ত নেব।’
নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিভেদ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘আমি তো মনে করি আওয়ামী লীগের কোনো পার্ট নেই। এখানে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সবাই এক। তৃণমূলের কর্মীরা এখানে সবাই এসেছেন। আশা করি ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি থাকলে সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। সবাই মিলে আমরা ইলেকশন করব ইনশাল্লাহ।’
আইভী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মনোনয়ন বোর্ড নারায়ণগঞ্জবাসীকে যে নৌকা উপহার দিয়েছেন আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী এবং নেতাকর্মীরা মিলে ২২ ডিসেম্বর জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এই মেয়র পদটা উপহার দেব।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হইনি। আমি ২০০৩ সালে (নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান) যখন হয়েছিলাম, তখন দলের সমর্থিত প্রার্থী ছিলাম। ২০১১ সালে (নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন) এটা ওপেন ছিল। প্রধানমন্ত্রীর অসংখ্য দোয়া ছিল। সুতরাং এবার যেহেতু দলীয়ভাবে হচ্ছে, দলের নমিনেশন নিয়ে হচ্ছে, নৌকা যেহেতু পেয়েছি, অবশ্যই আমি অনেক খুশি। দলীয়ভাবে নির্বাচন করব ইনশাল্লাহ। নারায়ণগঞ্জবাসীর ভোটে জয়যুক্ত হব ইনশাল্লাহ।’
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলটির স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র পদে দলের মনোনয়নের জন্য যে তিনজনের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল তাতে বর্তমান মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর নাম ছিল না। তবে জনমত বিবেচনায় নিয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড শেষ পর্যন্ত সেলিনা হায়াৎ আইভীকেই মনোনয়ন দিয়েছে। ওই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কে পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বিষয়টি নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশেই গত কদিন আলোচিত ছিল।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২২ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় আগামী ২৪ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই ও বাছাই করা হবে আগামী ২৬ ও ২৭ নভেম্বর। নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় আগামী ৪ ডিসেম্বর।
২০১১ সালের ৫ মে নারায়ণগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ ও কদমরসুল এ তিনটি পৌরসভা বিলুপ্ত করে ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। একই বছর ৩০ অক্টোবর প্রথমবারের মতো সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শামীম ওসমানকে পরাজিত করে সিটির প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী, যিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে আইভী বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন।

নাফিজ আশরাফ, নারায়ণগঞ্জ