সাজা গোপন করে বেতন তুলছেন ডিসির গাড়িচালক
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসকের (ডিসি) একজন গাড়িচালক মামলায় সাজা পেয়েও নিয়মিত বেতনভাতা তুলছেন। ডিসি বিষয়টি জানার পরও ওই চালককে অবৈধভাবে চাকরি করার সুযোগ দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী মো. এসকান্দার মোল্লা।
মামলার নথিপত্র থেকে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার খানারপাড়ে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ২০০৭ সালের ১৪ অক্টোবর একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই বছরের ১৯ অক্টোবর থানায় মামলা করেন মো. এসকান্দার মোল্লা। মামলায় নয়জনকে আসামি করা হয়। পরে ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর এই মামলার রায়ে দুই আসামিকে খালাস দিয়ে বাকি সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেন আদালত। রায়ের পর সাত আসামির মধ্যে চারজন পলাতক আছেন।
গোপালগঞ্জের মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. মতিয়ার রহমান গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর রায়ে উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত দুই নম্বর আসামি ইউনুছ মোল্লার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ দণ্ডবিধি ১৪৩ ও ৩২৬ ধারায় প্রমাণিত হয়েছে। তাঁকে ৩২৬ ধারার অভিযোগে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরো দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ১৪৩ ধারার অভিযোগে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরো এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। ওই দিন মামলার রায়ের পর ডিসির গাড়িচালক ২০ দিন হাজতে থাকেন। এরপর তিনি জামিনে মুক্তি পান।
অভিযোগ রয়েছে, ২০ দিন হাজতে থাকলেও সাময়িক বরখাস্ত হননি ওই গাড়িচালক। বরং হাজতে থাকা ২০ দিন অফিসে দায়িত্ব পালন করেছেন মর্মে বেতনও তুলেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, জামিনে মুক্তি নেওয়ার পর থেকেই ওই গাড়িচালক অফিসে না এলেও নিয়মিত বেতন-ভাতা তুলছেন।
এ ব্যাপারে মাদারীপুর জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) সাইফুদ্দিন গিয়াস জানান, ইউনুছের হাজতবাসের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের জানা ছিল না। তিনদিন আগে এ বিষয়টি তাঁদের নজরে এলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সার্বিক) জানানো হয়েছে। দ্রুত এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
গাড়িচালক ইউনুছ মোল্লা কোথায় আছেন জানতে চাইলে সাইফুদ্দিন গিয়াস জানান, তিনি অফিসের কাজে ঢাকায় আছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. কামাল উদ্দিন বিশ্বাস জানান, গাড়িচালক জামিনে আছেন। ঢাকায় নয়, তিনি মাদারীপুরেই আছেন।

এম. আর. মুর্তজা, মাদারীপুর