ফরিদপুরে ইউপি সদস্যসহ ১১ জনকে জেল-জরিমানা
ফরিদপুর সদর ও সদরপুর উপজেলার পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীতে অভিযান চালিয়ে চার মণ ইলিশ মাছ ও পাঁচ মণ জাল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আটক করা হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্যসহ ১১ জনকে। তাঁদের মধ্যে ১০ জনকে ২৮ দিন করে কারাদণ্ডাদেশ ও একজনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
গতকাল রোববার রাত থেকে আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমন চন্দ্র দাস ও সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোকসানা রহমান। অভিযানকালে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সজীব সাহাও উপস্থিত ছিলেন।
সুমন চন্দ্র দাস জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এই মৌসুমে অর্থাৎ গত ২২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ মাছ ধরা, বিক্রি করা ও কেনা নিষেধ। এই কারণেই জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে পদ্মা নদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দেড় মণ ইলিশ ও দুই মণ জাল জব্দ করা হয়। জেলেরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা যায়নি।
অপরদিকে সদরপুর উপজেলার পদ্মা-আড়িয়াল খাঁ নদীতে রোববার রাতে ও সোমবার সকালে অভিযান চালান ইউএনও রোকসানা রহমান। এ সময় ইলিশ শিকার ও নদীর ঘাটে ইলিশ বিক্রির অপরাধে এক ইউপি সদস্যসহ ১১ জনকে আটক করা হয়। জব্দ করা হয় আড়াই মণ ইলিশ ও তিন মণ কারেন্ট জাল।
আটক ব্যক্তিরা হলেন কাদের চাকলাদার (৬০), শেখ দুদু মিয়া (৬০), আমজেদ মাতুব্বর (৫০), মো. রাজন কাজী (৫৭), বিক্রেতা দেলোয়ার খলিফা (৩০), বিল্লাল শিকদার (২২), শুকুর মোল্লা (৪২), লাল চান হাওলাদার (২৫), সিদ্দিক মোল্লা (২০), ইউপি সদস্য ফরহাদ কাড়াল (৩৮) ও সোহরাব মাল (৪২)। সোহরাব অসুস্থ থাকায় তাঁকে ১০ হাজার টাকার জরিমানা করা হয়।
জব্দ করা অবৈধ কারেন্ট জাল স্থানীয় ঘাটে পুড়িয়ে দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জব্দ করা মাছগুলো বিভিন্ন এতিমখানায় দেওয়া হয়।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর