সিরিজ বোমা হামলার আসামিসহ নিখোঁজ ৩
সাতক্ষীরায় একই রাতে ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার আসামিসহ তিন ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের দুজনের স্বজনরা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং সংবাদ সম্মেলনও করেছেন।
স্বজনদের অভিযোগ, গত ১৬ অক্টোবর থেকে ওই তিন ব্যক্তি নিখোঁজ। এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি তাঁদের।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের একজনের নাম সাইফুল ইসলাম (৩৬)। আজ সোমবার সাইফুলের মা আখিরুন্নেসা সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান।
সাইফুল ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার আসামি। অন্য ব্যক্তির নাম গোলাম মোরশেদ। তিনি সিরিজ বোমা হামলার আসামি মো. গিয়াসউদ্দিনের ছেলে। আসামি গিয়াসউদ্দিন এখনো কারাগারে আটক। নিখোঁজ হওয়া তৃতীয় ব্যক্তির নাম মাকসুদুর রহমান তোতা। তিনি সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ছাত্র ছিলেন।
জানা যায়, সাইফুল ইসলাম ২০০৫ সালের সিরিজ বোমা হামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হন। পুলিশ সাইফুলকে জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) এহসার সদস্য বলে চিহ্নিত করে। দীর্ঘদিন কারাবাসের পর কিছুদিন আগে সাইফুল জামিনে বাড়ি ফেরেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির মধ্যে সাইফুল বিভিন্ন দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।
সাইফুলের মা আখিরুন্নেসা জানান, ১৬ অক্টোবর রাত ১২টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি এসে সাইফুলকে ডেকে নিয়ে যায়। স্বজনরা তাঁদের পরিচয় জানতে পারেনি। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানায় জিডি করা হয়েছে।
একই রাতে পৌরসভার গড়েরকান্দা এলাকা থেকে সন্ধ্যায় নিখোঁজ হন মাকসুদুর রহমান তোতা। গত শনিবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে বিষয়টি জানান মাকসুদুরের বাবা জুম্মন আলী।
মাকসুদুর এবার সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক (সম্মান) পাস করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাকসুদুর আহলে হাদিস নেতা মির্জা আসাদুল্লাহ আল গালিবের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। তিনি গালিব নিয়ন্ত্রণাধীন বাঁকাল দারুল ইসলাম আহমাদিয়া সালাফিয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতেন।
মাকসুদুরের পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাকসুদুর নামাজ পড়তে মসজিদে যাচ্ছেন বলে বেরিয়ে যান। এরপর থেকে তাঁর মোবাইল বন্ধ। বাবা জুম্মন আলী এ বিষয়ে সদর থানায় জিডি করেছেন।
জানা যায়, একই রাতে নিখোঁজ হন গোলাম মোরশেদ নামের এক ব্যক্তি। স্বজনরা জানান, রাত ৯টার দিকে সাতক্ষীরা শহরতলীর কদমতলার নিজেদের বাসা থেকে গোলাম মোরশেদকে মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন ব্যক্তি।
মোরশেদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ওই ব্যক্তিদের চিনতে পারেনি। মোরশেদ কাসেমপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যকর্মীর কাজ করতেন। মোরশেদের বাবা ভারতীয় নাগরিক মো. গিয়াসউদ্দিন কদমতলার একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার আসামি হিসেবে গিয়াসউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গিয়াসউদ্দিন জেএমবির শীর্ষ নেতাদের একজন। তিনি এখনো কারাগারে আটক।
তবে এ ব্যাপারে থানায় কোনো জিডি করেনি মোরশেদের পরিবার।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন মোল্লা জানান, নিখোঁজদের বিষয়ে থানায় জিডি হয়েছে। তবে তাঁরা কোথায় কিংবা কেউ তাদের তুলে নিয়ে গেছে নাকি তারা নিজ থেকে কোথাও গেছে তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
মাসখানেক ধরে নিখোঁজ আরো দুই
জামিন পেয়ে বাড়ি এসেছিলেন সিরিজ বোমা হামলার আসামি ইটাগাছার বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল। পুলিশ জানিয়েছে, তিনিও জেএমবির সদস্য ছিলেন।
এক মাসেরও বেশি সময় ধরে উজ্জ্বল নিখোঁজ বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজনরা। চলতি মাসের শুরুর দিকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন উজ্জ্বলের স্বজনরা।
পাঁচ মাস ধরে নিখোঁজ আশাশুনি উপজেলার খেড়ুয়ারডাঙ্গা গ্রামের মুত্তাসিম বিল্লাহ। ঢাকায় চাকরি করতে গিয়ে আর ফেরেননি তিনি। চলতি মাসেই এক সংবাদ সম্মেলনে বিল্লাহর নিখোঁজের ব্যাপারে জানান তাঁর পরিবার।

সুভাষ চৌধুরী, সাতক্ষীরা